বরাক তরঙ্গ, ৭ নভেম্বর : দীপাবলির পুণ্যলগ্নে আলো ও ভক্তির আবহে সেজে উঠেছে সোনাইয়ের ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী শ্যামাকালী মন্দির। ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের মতো এবারও আয়োজিত হতে চলেছে শ্রীশ্রী শ্যামাকালী পূজা ও অষ্টপ্রহরব্যাপী হরিনাম কীর্তন। ইতিমধ্যে উৎসবকে সফল করে তুলতে শুরু হয়েছে জোরদার প্রস্তুতি।
শুক্রবার মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে পূজা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরেন আয়োজক কমিটির কর্মকর্তারা। উপস্থিত ছিলেন কমিটির সভাপতি প্রণব মজুমদার, সম্পাদক ভজন সেন, শ্যামলেন্দু দাসসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

সাংবাদিক সম্মেলনে কর্মকর্তারা জানান, ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত শ্রীশ্রী শ্যামাকালী মন্দিরটি বরাক উপত্যকার অন্যতম প্রাচীন ও জাগ্রত কালীমন্দির হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে এই মন্দিরের সঙ্গে অসংখ্য ভক্তের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। প্রতি বছর শ্যামাপূজা উপলক্ষে সোনাইয়ের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও বহু ভক্তের সমাগম ঘটে।

আয়োজকদের দেওয়া সূচি অনুযায়ী, আগামী ৮ নভেম্বর রাত ৮টায় বিশেষ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে শ্রীশ্রী শ্যামাপূজার মূল অর্চনা ও তারাপূজা। এরপর ৯ ও ১০ নভেম্বর দু’দিনব্যাপী মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে অখণ্ড হরিনাম কীর্তন। আগামী ১১ নভেম্বর ধর্মীয় রীতিনীতি ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে অষ্টপ্রহর হরিনাম কীর্তনের সমাপ্তি ঘটবে।

কমিটির সভাপতি প্রণব মজুমদার ও সম্পাদক ভজন সেন জানান, উৎসব উপলক্ষে মন্দির চত্বরে ভক্তদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। নির্বিঘ্নে ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও চলছে।
সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে বরাক উপত্যকার সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মানুষের প্রতি সপরিবারে এই পবিত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান আয়োজকরা। মা শ্যামাকালীর আশীর্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি শ্রীকৃষ্ণের নামকীর্তনে সামিল হয়ে ভক্তিমুখর পরিবেশের অংশীদার হওয়ার জন্য সকলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।



