দীপাবলির আলোয় দূর হোক সমাজের অন্ধকার, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করার আহ্বান মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৭ নভেম্বর : অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভশক্তির বিজয়ের প্রতীক শ্যামাপুজো এবং আলোর উৎসব দীপাবলি উপলক্ষে বরাক উপত্যকাসহ সমগ্র অসমবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পার্বত্য এলাকা ও বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী তথা পাথারকান্দির বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল। উৎসবের এই শুভক্ষণে রাজ্যবাসীর সুখ, শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি কামনা করার পাশাপাশি সমাজে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এক শুভেচ্ছা বার্তায় মন্ত্রী বলেন, দীপাবলি শুধুমাত্র প্রদীপ জ্বালানো কিংবা আলোকসজ্জার উৎসব নয়। এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য আরও গভীর। অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর, অশুভের বিরুদ্ধে শুভশক্তির এবং হতাশার বিরুদ্ধে আশা ও নতুন সম্ভাবনার চিরন্তন বিজয়ের বার্তা বহন করে এই উৎসব। প্রদীপের ক্ষুদ্র শিখা যেমন চারপাশের অন্ধকার দূর করে, তেমনই মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও মানবিকতার আলো প্রজ্বলিত হলে সমাজ থেকেও হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভেদের অন্ধকার দূর করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, মা শ্যামার আশীর্বাদে প্রত্যেকের জীবন সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্যে পরিপূর্ণ হয়ে উঠুক। প্রতিটি পরিবারে বয়ে আসুক আনন্দ ও স্বস্তির বার্তা। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ যেন শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারেন, সেটাই তাঁর প্রার্থনা। একই সঙ্গে হিংসা, বিদ্বেষ, অসহিষ্ণুতা ও সংকীর্ণ মানসিকতা পরিহার করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও মানবিকতার পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

মন্ত্রী তাঁর বার্তায় অসমের বহুত্ববাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম, জাতি ও সম্প্রদায়ের মানুষের সহাবস্থানই অসমের অন্যতম শক্তি। বৈচিত্র্যের মধ্যেই নিহিত রয়েছে ঐক্যের সৌন্দর্য। তাই বিভেদ ও সংকীর্ণতাকে দূরে সরিয়ে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে হবে।

কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, ধর্ম-বর্ণ ও ভাষার বিভেদ ভুলে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ যখন একে অপরের আনন্দের অংশীদার হয়ে ওঠেন, তখনই উৎসবের প্রকৃত সার্থকতা প্রকাশ পায়। উৎসব মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য বিনিময়ের পাশাপাশি সামাজিক বন্ধনকে আরও নিবিড় করার সুযোগ এনে দেয়। তাই দীপাবলি ও শ্যামাপুজোর এই পবিত্র মুহূর্তে সকলকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্বের মনোভাব নিয়ে উৎসব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষভাবে বরাক উপত্যকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শ্রীভূমি, কাছাড় ও হাইলাকান্দির মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা সামাজিক সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখা সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব। এই অঞ্চলের মানুষ যেন ঐক্য ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেন, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

অন্যদিকে, উৎসব উদ্‌যাপনের পাশাপাশি পরিবেশ ও নাগরিক দায়িত্ব পালনের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন মন্ত্রী। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং নিরাপদ উপায়ে দীপাবলি পালনের জন্য সকলের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের কথা বিবেচনা করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে উৎসব পালনের পরামর্শ দেন। আনন্দ উদ্‌যাপনের নামে যাতে পরিবেশের ক্ষতি কিংবা অন্যের অসুবিধা না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, উৎসবের প্রকৃত সৌন্দর্য শুধু আলোকসজ্জা কিংবা আতশবাজির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, প্রতিবেশীর সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া এবং মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যেই উৎসবের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত রয়েছে।

পরিশেষে মা শ্যামার শ্রীচরণে প্রার্থনা জানিয়ে কৃষ্ণেন্দু পাল কামনা করেন, এবারের শ্যামাপুজো ও দীপাবলি বরাক উপত্যকাসহ সমগ্র অসমের প্রতিটি পরিবারে বয়ে আনুক অনাবিল আনন্দ, সুখ, শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি। মানুষের জীবন থেকে দূর হোক দুঃখ, দুর্দশা ও হতাশার অন্ধকার। নতুন আশা ও স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাক প্রতিটি পরিবার। তাঁর প্রত্যাশা, এবারের আলোর উৎসব সামাজিক ঐক্য, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। প্রদীপের আলোয় শুধু ঘরবাড়ি নয়, আলোকিত হোক মানুষের মনও। দূর হোক বিভেদ ও বিদ্বেষের অন্ধকার, জয় হোক মানবিকতা, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির—এই বার্তাই দিয়েছেন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *