আবর্জনার স্তূপ ধসে ২২ জনের মৃত্যু, আহত বহু

Spread the news

২৪ আগস্ট : আবর্জনার স্তূপের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যু হলো ২২ জনের। গুরুতর জখম বহু। রবিবার পূর্ব আফ্রিকার গিনির রাজধানী কোনাক্রির ঘটনা। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আবর্জনা নিয়ে এসে জড়ো করা হতো কোনাক্রির দার এস সালামে। বছরের পর বছর ধরে আবর্জনা জমতে জমতে সেখানে বিশাল উঁচু স্তূপ তৈরি হয়। প্রবল বৃষ্টিতে সেই স্তূপ ধসেই বিপর্যয় ঘটে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে, আবর্জনার স্তূপের পাশেই বহু মানুষ ঝুপড়ি বানিয়ে বসবাস করতেন। প্রশাসন জায়গাটি বন্ধ করে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছিল। দুর্ঘটনার দিন রাতভর প্রবল বৃষ্টিতে আবর্জনার স্তূপের নীচের অংশ দুর্বল হয়ে যায়। ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ আচমকাই প্রবল শব্দে ধস নামে। চাপা পড়ে যান বেশ কয়েকটি ঝুপড়ির বাসিন্দা।

দুর্ঘটনার পরেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় উদ্ধারকারী দল। এক এক করে বের করে আনা হয় ২২ জনের মৃতদেহ। আহত হয়েছেন অনেকে। তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তবে এখনও বহু মানুষ আবর্জনার স্তূপের নীচে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কাকতালীয় বিষয় হলো, রবিবারই দার এস সালাম ল্যান্ডফিলটি বন্ধ করে দেওয়ার কথা ছিল। তার আগেই এই দুর্ঘটনা।

আবর্জনার স্তূপের কাছে বসবাসকারী পরিবারগুলিকে অন্যত্র চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল প্রশাসন। অনেকে এলাকা ছেড়ে চলেও যান। তবে বেশ কিছু পরিবার তখনও সেখানেই রয়ে গিয়েছিল। তাঁদেরও অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রসঙ্গে গিনির টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ডিসেন্ট্রালাইজেশন মন্ত্রী দিয়েনাবু তোরে বলেন, ‘খুব শীঘ্রই বাকি পরিবারগুলিকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’

গিনিতে ভারী বৃষ্টির জেরে ধসের ঘটনা নতুন নয়। ২০২৫-এর অগস্টে কয়ার প্রদেশের মানেয়া এলাকায় প্রবল বর্ষণে বেশ কয়েকটি বাড়ি ভেঙে পড়েছিল। সেই ঘটনায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হয়েছিলেন আরও ১০ জন। দার এস সালামেও এর আগে একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০১৭-য় আবর্জনার বিশাল স্তূপ ধসে আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়ি চাপা পড়ে যায়। তাতেও বেশ কয়েক জনের মৃত্যু হয়েছিল। এবার ফের সেই জায়গাতেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *