বরাক তরঙ্গ, ২৯ মে : স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে জাতীয় সড়কের ধারে ছোট্ট একটি ফলের স্যালাডের দোকান খুলেছিলেন মণিকা সোনোয়াল নামের এক তরুণী। সমাজের প্রচলিত পথ এড়িয়ে নিজের চেষ্টায় স্বনির্ভর হওয়ার লড়াই শুরু করেছিলেন তিনি। মাত্র ২৮ দিন আগে শুরু করা সেই ছোট ব্যবসার মাধ্যমেই অল্প সময়ে বহু মানুষের পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন পিতৃমাতৃহীন মণিকা। সবকিছুই ভালোভাবে চলছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে থেমে গেল তার স্বপ্নযাত্রা। ধেমাজির তেলিজান এলাকায় জাতীয় সড়কের ধারে ফলের স্যালাড বিক্রি করে স্বনির্ভর হওয়ার চেষ্টা করা মণিকার জীবনে বৃহস্পতিবার নেমে আসে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। যে ঘটনা কেউ কল্পনাও করেনি। দুর্ঘটনার পর আর ফিরে আসেননি মণিকা। অসমাপ্ত রয়ে গেল তার আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে দোকান গুটিয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন মণিকা। পরে জরুরি একটি কাজের জন্য ফের দোকানের দিকে রওনা দেন তিনি। পথে শিঙিমাড়ি এলাকায় রাস্তার ধারে ফেলে রাখা পাথরের স্তূপে তার চালিত গাড়িটি সজোরে ধাক্কা মারে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মণিকার। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের মতে, খুব অল্প সময়েই নিজের পরিশ্রম ও হাসিমুখের ব্যবহারে সকলের মন জয় করেছিলেন মণিকা।
ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছে সোনোয়াল কছারি ছাত্র সংস্থা। সংগঠনের এক প্রতিনিধি অভিযোগ করে বলেন, “ধেমাজি-ঢকুয়াখনা দুই লেনের রাস্তা নির্মাণের কাজের জন্য নির্মাণকারী সংস্থা রাস্তার ধারে অব্যবস্থাপনার সঙ্গে পাথর ফেলে রেখেছিল। এর ফলেই মণিকার মতো এক তরুণীর প্রাণ গেল। অবিলম্বে তার পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং রাস্তার ধারে ফেলে রাখা পাথরগুলো সরিয়ে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।”



