হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের আল্টিমেটাম

Spread the news

১১ জুলাই : হরমুজ প্রণালির কৌশলগত নিরাপত্তা বজায় রাখতে ইরানকে কঠোর অবস্থানে আসার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবার ওমানে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আগে ওয়াশিংটন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ইরানকে প্রকাশ্যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে যেকোনো ধরনের হামলা স্থায়ীভাবে বন্ধের অঙ্গীকার করতে হবে।

মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যদিও তেহরান ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের কাছে হামলার ঘটনাকে ‘ভুল’ হিসেবে স্বীকার করেছে, কিন্তু এর কোনোটিই যথেষ্ট নয়। হোয়াইট হাউসের দাবি, শুধু ব্যক্তিগত স্বীকারোক্তি নয়, বরং আন্তর্জাতিক মহলে ইরানকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দায় স্বীকার করতে হবে।

চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘাত গত জুনে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন বলে মনে করা হচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তেহরান দাবি করেছে তাদের সামরিক কাঠামোর ভেতরে থাকা একটি কট্টরপন্থি ‘নিয়ন্ত্রণহীন’ গোষ্ঠী আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করার জন্য এই হামলা চালিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই অজুহাত গ্রহণে নারাজ। মার্কিন কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যদি তেহরান অবিলম্বে প্রকাশ্যে বিবৃতি প্রদান এবং শান্তি স্থাপনে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে তাদের ভয়াবহ ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে।

শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে ওমানে আজ শনিবার এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। একই সময়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে কাতারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল শুক্রবার তেহরান সফর করেছে। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে নিশ্চিত করেছেন যে, ইরান আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করলেও বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। ফলে পরবর্তী যেকোনো সমঝোতার ভিত্তি হবে সম্পূর্ণ নতুন ও কঠোর শর্তাবলী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *