২০ আগস্ট : বেসরকারি স্কুলের প্রিন্সিপাল রূপা রেড্ডিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ২৭ বার কুপিয়ে তাঁকে খুন করে দশম শ্রেণির দুই পড়ুয়া। এই নৃশংস কাণ্ডটি ঘটে হায়দরাবাদের নালগোন্ডা জেলায়। রূপার বাড়ি থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার হয় ১১ অগস্ট। তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, প্রিন্সিপালকে খুনের অভিযোগে তাঁরই স্কুলের ক্লাস টেনের দুই ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে ২৭ বার কোপানো হয়েছিল। প্রিন্সিপালের খুনের রহস্য উদ্ধারে তদন্তকারীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে একটি মাত্র শব্দ—‘বাবু’। খুনের দিন রূপা তাঁর কাকিমার সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন। আচমকাই ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। ফোন কাটার ঠিক আগে কাকিমা রূপাকে চিৎকার করে ‘বাবু’ বলতে শুনেছিলেন।
এই সূত্র ধরেই স্কুলের ছাত্রদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। একই সঙ্গে স্কুলের শিক্ষক, কর্মী ও পরিচারিকাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তে উঠে আসে দশম শ্রেণির দুই ছাত্রের অস্বাভাবিক খরচের বিষয়টি। তারা বন্ধুদের নিয়ে পার্টি করছিল, রেস্তোরাঁয় খরচ করছিল এবং দামি জিনিসপত্র কিনছিল।
নালগোন্ডার পুলিশ সুপার শরৎচন্দ্র পাওয়ার জানান, ১৯ অগস্ট দুই ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের একজনের কাছ থেকে ১ লক্ষ ৫১ হাজার টাকা ও একটি আইফোন উদ্ধার হয়। টাকা অভিভাবকের কাছ থেকে পাওয়ার দাবি করলেও কয়েকটি নোটে রক্তের দাগ মেলায় সন্দেহ আরও বাড়ে। তদন্তে জানা যায়, ওই ছাত্রের কাছে টাকা ও দামি ফোন দেখে আগেই সন্দেহ হয়েছিল রূপার। তাঁকে স্কুলের হস্টেল থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন প্রিন্সিপাল। পুলিশের অনুমান, সেই ক্ষোভ থেকেই রূপাকে নিশানা করা হয়।
পুলিশের দাবি, ৬ অগস্ট থেকেই দুই ছাত্র রূপার বাড়িতে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। ১১ অগস্ট স্কুলের ফি জমা দেওয়ার দিন হওয়ায় বাড়িতে বিপুল টাকা থাকবে বলে তারা ধারণা করেছিল। গ্লাভস ও ছুরি জোগাড় করে বাড়ির চারপাশে রেকিও করা হয়।
ঘটনার দিন এক ছাত্র পাঁচিল টপকে বাড়িতে ঢোকে, অন্য জন বাইরে পাহারায় ছিল। রূপা তাকে চিনে ফেলায় আচমকা হামলা চালানো হয়। তাঁকে ২৭ বার কোপানোর পর ঘর থেকে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত পড়ুয়া। পালানোর সময় রক্তমাখা পোশাক ড্রেনে ফেলে দেওয়া হয় বলেও জানিয়েছে পুলিশ। দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে হাজির করানো হয়। বোর্ড তাদের জুভেনাইল হোমে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।



