ইরান যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস, চাপে ট্রাম্প

Spread the news

৪ জুন : কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে হামলা চালানোর ক্ষমতা সীমিত করতে একটি প্রস্তাব পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস)।

বুধবার ওয়াশিংটনে ডেমোক্র্যাটদের আনা ‘ওয়ার পাওয়ারস’ প্রস্তাবটি ২১৫-২০৮ ভোটে পাস হয়। ভোটাভুটিতে চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে পক্ষে ভোট দেন। উভয় কক্ষে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ও সিনেট) রিপাবলিকান দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও কংগ্রেসে এটি পাস হওয়াকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রস্তাবটিতে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া চলমান ইরান যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। যদিও এই প্রস্তাব আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ এটি কার্যকর হতে হলে সিনেটেও পাস হয়ে আসতে হবে। ট্রাম্পের সম্ভাব্য ভেটো অতিক্রম করতে উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এরপরও এটি ট্রাম্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ধাক্কা। এর আগে প্রতিনিধি পরিষদে এমন তিনটি উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছিল, যদিও প্রতিবারই ভোটের ব্যবধান কমেছে।

ইরানে যুদ্ধ শুরু করতে ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন নেননি। তিনি এ যুদ্ধকে ‘ছোটখাটো সংঘর্ষ’ বা ‘স্বল্পমেয়াদি সামরিক অভিযান’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে রিপাবলিকান নেতার বারবার সামরিক শক্তি প্রয়োগ কংগ্রেসের কিছু আইনপ্রণেতাকে হতাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা একমাত্র কংগ্রেসের হাতেই ন্যস্ত।

বুধবারের ভোট ছিল চলতি বছরে চতুর্থবার। এদিন প্রতিনিধি পরিষদ ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ট্রাম্পকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে বাধ্য করার লক্ষ্যে ‘ওয়ার পাওয়ারস’ প্রস্তাবের ওপর ভোট দেন।

ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্টের ওপর ভোট হওয়ার কথা ছিল ২১ মে, কংগ্রেসের মেমোরিয়াল ডে অবকাশ শুরুর আগের দিন। তবে প্রস্তাবটি রিপাবলিকানদের সমর্থন নিয়ে পাস হতে পারে—এমন ইঙ্গিত থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে ভোটটি বাতিল করা হয়। রিপাবলিকান এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হাউস স্পিকার মাইক জনসন নির্ধারিত সময়ের আগেই অধিবেশন মুলতবি করার সিদ্ধান্ত নেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে। শনিবার এ সংঘাতের ১০০ দিন পূর্ণ হতে যাচ্ছে। যদিও গত ৮ এপ্রিল থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। এরপরও এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর একাধিকবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করেছে।
সূত্র: আলজাজিরা, খবর: দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা ডিজিটাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *