বোয়ালি নদীতে অবৈধ বাঁধ, জলের তলায় হাজারো বিঘা চাষের জমি

Spread the news

দিলোয়ার বড়ভূইয়া, কাবুগঞ্জ।
বরাক তরঙ্গ, ২৭ আগস্ট : ভুবন পাহাড় থেকে প্রবাহিত একাধিক নালার জল একত্রিত হয়ে বোয়ালি নদীর সৃষ্টি হয়েছে। নদীটি সোনাই বিধানসভা এলাকার দিদারখুশ জিপির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে লক্ষ্মীপুর বিধানসভা এলাকার বোয়ালি চা বাগান অতিক্রম করে আমজুর নদীতে গিয়ে মিশেছে। অভিযোগ, বোয়ালি নদীর মোহনায় কয়েকজন ব্যক্তি অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ করে মাছ শিকার করছেন। এর ফলে নদীর স্বাভাবিক জলপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

জলাবদ্ধতার কারণে কাছাড় জেলার সোনাই, ধলাই ও লক্ষীপুর বিধানসভা এলাকার গঙ্গানগর, কৃষ্ণপুর-গঙ্গানগর, দিদারখুশ এবং দিদারখুশ-ভুবনহিল জিপির হাজারো বিঘা চাষের জমি বর্তমানে জলের তলায়। মাসের পর মাস জমিতে জল জমে থাকায় চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন বহু কৃষক।

বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী কৃষকরা অভিযোগ করেন, ভুবন পাহাড় থেকে নেমে আসা নালাগুলির জল বোয়ালি নদীতে এসে পড়লেও নালাগুলি দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার করা হয়নি। এর পাশাপাশি নদীতে অবৈধভাবে বাঁধ নির্মাণ করে মাছ শিকার করায় জলের স্বাভাবিক গতিপথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে অতিরিক্ত জল চাষের জমিতে ঢুকে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করছে।

কৃষকদের দাবি, ধলাই বিধানসভা এলাকার গঙ্গানগর ও কৃষ্ণপুর-গঙ্গানগর জিপি, সোনাই বিধানসভা এলাকার দিদারখুশ জিপি এবং লক্ষ্মীপুর বিধানসভা এলাকার দিদারখুশ-ভুবনহিল জিপির কয়েক হাজার বিঘা কৃষিজমি এই জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত নালাগুলি পরিষ্কার করা, বোয়ালি নদীতে নির্মিত অবৈধ বাঁধ অপসারণ এবং নদীর স্বাভাবিক জলপ্রবাহ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা। একইসঙ্গে তাঁরা ধলাই, সোনাই ও লক্ষীপুরের বিধায়কদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এই আশাও প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *