১৩ অক্টোবর : সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে টানা তৃতীয় দিনের মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী। সোমবার রাতে রিয়াদ শহরজুড়ে একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, রিয়াদ ও খামিস মুশাইতের দিকে ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।
হুথি গোষ্ঠীর সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ইয়েমেন সীমান্তের কাছে অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ও সাধারণ মানুষকে মক্কা ও মদিনা ছাড়া সৌদি আরবের অন্যান্য বিমানবন্দর এড়িয়ে চলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
এর আগে শনিবার কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া যায়। রোববারের পরবর্তী হামলায় আরও একজনের মৃত্যু এবং ১১ জন আহত হওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ধারাবাহিক হামলার জেরে বিমানবন্দরটি আগামী শনিবার পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কতটা কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে, তা খতিয়ে দেখছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আঞ্চলিক কয়েকজন কর্মকর্তার দাবি, প্রাথমিক তদন্তে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে ড্রোন ব্যবহারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান জানিয়েছেন, ধারাবাহিক হামলা দেশের সংকট মোকাবিলার সক্ষমতার জন্য একটি বড় পরীক্ষা। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
পরপর হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।



