আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস এবার ইংরেজি গ্রন্থে ‘এ হিস্ট্রি অব দ্য এস্টাব্লিশমেন্ট অব আসাম ইউনিভার্সিটি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

Spread the news

দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ২৬ অক্টোবর : আসাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, তার ঐতিহাসিক পটভূমি এবং বরাক উপত্যকার সাধারণ মানুষের অবদানকে বৃহত্তর পাঠকসমাজের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে প্রকাশিত হয়েছে বিকাশ চক্রবর্তীর লেখা ইংরেজি গ্রন্থ ‘A History of the Establishment of Assam University’। সোমবার বিকেলে শিলচরের ইলোরা হেরিটেজ হলে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী সংগঠন ‘আকসা’-র উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গ্রন্থটির আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

‘সাময়িক প্রসঙ্গ’-এর সম্পাদক তৈমুর রাজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. অশোক সেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আকসার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক প্রমোদ শ্রীবাস্তব, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রদীপ দত্তরায় এবং শিলচর উইমেন্স কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ড. মনোজ পাল। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মনোজ দেব।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আসাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। আকসার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক প্রমোদ শ্রীবাস্তব ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রদীপ দত্তরায় ১৯৮৩ সালে সংগঠনটির নেতৃত্বে শুরু হওয়া ঐতিহাসিক আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে, বরাক উপত্যকার সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই এই আন্দোলনকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।

বক্তব্য রাখছেন প্রদীপ দত্তরায়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. অশোক সেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় মানুষের ঐতিহাসিক অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও এই আন্দোলনের ইতিহাস নিয়ে একটি গ্রন্থ প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে আসাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি আকসার ঐতিহাসিক ভূমিকা ও সংগ্রামের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

লেখক বিকাশ চক্রবর্তী জানান, বরাক উপত্যকার বাইরে থাকা শিক্ষার্থী, গবেষক এবং অন্যান্য আগ্রহী পাঠকদের কাছে আসাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই ইংরেজি সংস্করণটি প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের ইতিহাস আরও বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা আগামী প্রজন্মের কাছে আসাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের ইতিহাস ও বরাক উপত্যকার মানুষের অবদান তুলে ধরার পাশাপাশি এই ঐতিহাসিক সংগ্রামের যথাযথ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *