মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৩ নভেম্বর : এক নিষ্ঠাবান ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি, সমাজসেবী তথা রাম মন্দির আন্দোলনের প্রাক্তন করসেবক সত্যজিৎ পালের প্রয়াণে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে বাজারিছড়ার কালাছড়া সহ বৃহত্তর বাজারিছড়া এলাকায়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও অসংখ্য গুণগ্রাহী।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁকে শিলচর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার বিকেল প্রায় সাড়ে চারটা নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে স্ত্রী, এক কন্যা ও দুই পুত্রসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহীকে রেখে গেছেন।
বাজারিছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কালাছড়া গ্রামের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সত্যজিৎ পাল ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ ও সমাজমনস্ক ব্যক্তি। যুবক বয়স থেকেই ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। রাম মন্দির আন্দোলনেও তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। ১৯৯২ সালে করসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে ধর্মীয় আদর্শ ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে গুরুত্ব দিয়ে চলেছেন।
সত্যজিৎ পাল ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান সৎসঙ্গী। নিরামিষভোজী এই ব্যক্তি ধর্মীয় অনুশাসন ও আধ্যাত্মিক চর্চার প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। বৃহত্তর বাজারিছড়া এলাকার বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। যেকোনও সামাজিক কিংবা ধর্মীয় আয়োজনে তাঁকে সামনের সারিতে দেখা যেত।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন সহজ-সরল, পরিশ্রমী, মিষ্টভাষী, পরোপকারী ও অতিথিপরায়ণ। তাঁর আন্তরিক ব্যবহার এবং সদাহাস্যময় ব্যক্তিত্বের কারণে সকলের কাছেই তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়াতেন তিনি।
ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও সক্রিয় ছিলেন সত্যজিৎ পাল। ভারতীয় জনতা পার্টির সঙ্গে যুক্ত থেকে দলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
সোমবার তাঁর মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও এলাকার অসংখ্য মানুষ ভিড় জমান। পরে রাতেই নিজ বাড়ি সংলগ্ন শ্মশানঘাটে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। শেষকৃত্যে এলাকার বহু মানুষের উপস্থিতি প্রয়াতের প্রতি তাঁদের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।
সত্যজিৎ পালের প্রয়াণে বিভিন্ন মহল থেকে শোকপ্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে বৃহত্তর বাজারিছড়ার ধর্মীয় ও সামাজিক পরিমণ্ডলে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো। তাঁর কর্মময় জীবন, সহজ-সরল ব্যক্তিত্ব এবং মানুষের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা দীর্ঘদিন এলাকাবাসীর স্মৃতিতে অমলিন থাকবে।



