৭ আগস্ট : তিন কন্যাসন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করতে নিজের সারাজীবনের উপার্জিত অর্থ ও আবেগ উজাড় করে দিয়েছিলেন তিনি। অথচ, জীবনের শেষযাত্রায় সেই বাবা পেলেন না সন্তানদের একটু স্পর্শ। অসীম শূন্যতায় ভরা চোখ দুটো একবার মেয়েদের দেখার অপেক্ষায় চিরতরে বুজে গেল। এমনকি মৃত্যুর পরও বাবার শেষকৃত্যে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজনবোধ করলেন না কেউই।
উল্টে ভিন রাজ্য থেকে ভিডিও কলে বাবার জ্বলন্ত চিতা দেখতে দেখতে এক মেয়ের বিরক্তিকর প্রশ্ন- “আর কতক্ষণ লাগবে? আমাদের খাওয়া-দাওয়া আর স্নান করতে হবে।”
চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে হরিয়ানার সোনিপতে। মৃত বৃদ্ধের নাম শিবচরণ রামরতন গুপ্ত। একসময় মুম্বইয়ের অত্যন্ত সফল বস্ত্র ব্যবসায়ী ছিলেন তিনি। বিপুল ধনসম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও শেষ বয়সে একটু একটু করে যত্নের আশায় স্ত্রী মীনা গুপ্তকে নিয়ে দু’বছর আগে সোনিপতের একটি বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নেন। কিছুদিন পর স্ত্রী মারা গেলে তিনি পুরোপুরি নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন।
বৃদ্ধাশ্রমের প্রশাসক আনন্দ কুমার জানান, গত মাসখানেক ধরে মারাত্মক অসুস্থ ছিলেন শিবচরণবাবু। মৃত্যুর পূর্বে বারবার মেয়েদের অন্তত একবার চোখে দেখার আকুতি জানান তিনি। বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষের তরফে গত ২০ দিন ধরে ক্রমাগত যোগাযোগ করা হলেও তিন মেয়ের কেউই অসুস্থ বাবাকে দেখতে আসেননি। অবশেষে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৩টে নাগাদ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরেও মেয়েরা জানান, সোনিপতে আসা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। এমনকি এক মেয়ে অনলাইনের মাধ্যমে শেষকৃত্যের জন্য মাত্র ৫,১০০ টাকা পাঠিয়ে দায় সারেন। অগত্যা বৃদ্ধাশ্রমের কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারাই শিবচরণবাবুর দাহকার্য সম্পন্ন করেন।
জানা গেছে, মৃত বৃদ্ধের তিন মেয়ে বর্তমানে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে অত্যন্ত সফল ও প্রতিষ্ঠিত। দুই মেয়ে শিক্ষকতা করেন, একজন থাকেন নেপালে, একজন উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ে এবং অপরজন মুম্বইয়ে। বাবার চিতা যখন জ্বলছিল, তখন তাঁরা ভিডিও কলে সেই দৃশ্য দেখছিলেন। তখনই জনৈক কন্যা তাড়াহুড়ো করে কতক্ষণে কাজ শেষ হবে তা জানতে চান, যা উপস্থিত সকলের হৃদয় ভেঙে দেয়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ভিডিও এবং খবর ছড়িয়ে পড়তেই নিন্দার ঝড় উঠেছে। আধুনিক সমাজ ও পারিবারিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় দেখে চোখ ভিজছে নেটপাড়ার। সারাজীবন সন্তানদের জন্য সব ত্যাগ করে শেষ বয়সে এমন করুণ পরিণতি যেকোনো বিবেকবান মানুষকে নাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।



