বরাক তরঙ্গ, ২২ জুন : কাছাড় জেলার ধলাই থানার অন্তর্গত রাজনগর এলাকায় এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা, তা নিয়ে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ধলাই থানার পুলিশ। মৃত ব্যক্তির নাম রুহুল উদ্দিন তালুকদার (৩৫)। তিনি রাজনগর এলাকার বাসিন্দা এবং মুসলিম উদ্দিন তালুকদারের পুত্র।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রবিবার বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পর রুহুল উদ্দিন তাঁর স্ত্রী হাছিনা বেগম বড়ভূইয়াকে জানান বাজারে কারও সঙ্গে কথা কাটাকাটির সময় তাঁর পায়ে আঘাত লেগেছে। পরে তিনি স্ত্রীকে বাপের বাড়িতে চলে যেতে বলেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কিছুটা বাকবিতণ্ডাও হয়। এরপর স্ত্রী বাপের বাড়িতে চলে যান এবং রুহুল উদ্দিন বাড়িতে একাই ছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি, রবিবার গভীর রাতে বাড়ির ভেতরে কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে বলে আশপাশের বাসিন্দারা টের পান। পরে তাঁরা ঘরে গিয়ে রুহুল উদ্দিনকে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। খবর দ্রুত এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান তাঁর স্ত্রী। তিনি জানান, গত পাঁচ মাস ধরে তাঁর স্বামী নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। সংসার চালানো এবং স্বামীর চিকিৎসার খরচ বহন করতে তাঁকে বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করতে হতো। পাশাপাশি ছোট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রুহুল উদ্দিনের প্রায় দুই লক্ষ টাকার ঋণ ছিল। ঋণের চাপ ও দীর্ঘদিনের অসুস্থতার কারণে তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সোমবার সকালে ধলাই থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মৃতদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নানা জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত রয়েছে।



