১৯ আগস্ট : মাত্র ১৬ বছর বয়সেই ওজন পৌঁছেছিল প্রায় ২৭৫ কেজিতে। অতিরিক্ত ওজনের কারণে সাধারণ গাড়িতে ওঠাও সম্ভব হচ্ছিল না দিল্লির ওই কিশোরের। শেষ পর্যন্ত ট্রাকে করে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। প্রবল শ্বাসকষ্ট, অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর ত্বকের সংক্রমণ নিয়ে দিল্লির স্যার গঙ্গা রাম হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কিশোরটির বডি মাস ইনডেক্স (BMI) প্রায় ১০০-এর কাছাকাছি ছিল। বয়স কম হলেও চরম মাত্রার স্থূলতার কারণে তাঁর শরীরে একাধিক গুরুতর জটিলতা তৈরি হয়েছিল। ফলে অস্ত্রোপচারটি চিকিৎসকদের কাছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ডায়েট, শরীরচর্চা বা অন্যান্য নন-সার্জিক্যাল পদ্ধতিতে ওজন কমানোর চেষ্টা কার্যকর না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
হাসপাতালে পৌঁছনোর পর অবশ্য সঙ্গে সঙ্গে অস্ত্রোপচার করা হয়নি। প্রথমে প্রায় দুই সপ্তাহ পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (PICU) রেখে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করা হয়। এই সময়ে শ্বাসকষ্ট, ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ত্বকের সংক্রমণ-সহ বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসা করা হয়।
এরপর বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়। কিশোরটির বয়স, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক জটিলতা এবং অ্যানাস্থেশিয়া ও অস্ত্রোপচারের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন চিকিৎসকরা। সবদিক বিবেচনা করে করা হয় ল্যাপারোস্কোপিক স্লিভ গ্যাস্ট্রেকটমি।
এই বেরিয়াট্রিক সার্জারিতে পাকস্থলীর একটি বড় অংশ সরিয়ে সেটিকে সরু ‘স্লিভ’-এর মতো আকার দেওয়া হয়। ফলে একসঙ্গে বেশি খাবার গ্রহণের ক্ষমতা কমে যায় এবং ধীরে ধীরে ওজন কমাতে সাহায্য করে।
স্যার গঙ্গা রাম হাসপাতালের চিকিৎসকদের মতে, চরম স্থূলতার ক্ষেত্রে এই ধরনের অস্ত্রোপচার শুধু ওজন কমাতেই নয়, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো স্থূলতাজনিত জটিলতা নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে।
সফল অস্ত্রোপচারের পর ইতিমধ্যেই কিশোরটির ওজন প্রায় ৫০ কেজি কমেছে। চিকিৎসকদের আশা, আগামী দিনে ওজন আরও কমার সঙ্গে তাঁর শ্বাসকষ্ট, স্লিপ অ্যাপনিয়া এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যারও উন্নতি হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি ফলো-আপের পরই এই চিকিৎসার সম্পূর্ণ ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।



