ইরানে আজই হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের, পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি তেহরানের

Spread the news

হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা, ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলারে পৌঁছেছে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম

২৫ অক্টোবর : ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর সম্ভাবনার কথা জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ইঙ্গিত, পরিস্থিতি অনুযায়ী রবিবারই ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি তেহরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনাও খোলা রেখেছেন তিনি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

শনিবার ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর পাম বিচ কাউন্টির নির্বাচন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান জানান ট্রাম্প। নতুন করে সামরিক হামলার বিষয়ে তাঁর পরিকল্পনা কতটা এগিয়েছে, জানতে চাওয়া হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তাঁরা বিষয়টি বিবেচনা করছেন এবং রবিবারই হামলা হতে পারে। তবে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে আগাম ঘোষণা দেওয়ার প্রশ্নে তিনি অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।

ট্রাম্পের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে হবে, নয়তো তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারলে ইরান নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ এড়াতে পারে। তবে চুক্তি সম্পাদনের পর ইরান সেটি মেনে চলবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, ইরান চুক্তিতে আগ্রহী হলেও মূল প্রশ্ন হলো, তেহরান শেষ পর্যন্ত সেই সমঝোতার শর্ত মেনে চলবে কি না। ইরান যাতে কোনওভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেটিকেই নিজের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন ট্রাম্প। এর আগে বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে চালানো অভিযানও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য যথেষ্ট ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ইরানকে ঘিরে পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথা ভাবছে ওয়াশিংটন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান আলি আবদোল্লাহি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে তার জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান। একই সঙ্গে ইরানের কাছাকাছি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে দেশটি।

আলজাজিরার শনিবারের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে ‘এপিক ফিউরি’ নামে নতুন সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনা বিবেচনা করছে মার্কিন প্রশাসন। তবে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে হরমুজ প্রণালি। আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তেলবাহী জাহাজে হামলার খবর এবং নৌপথটির নিরাপত্তা ঘিরে অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব উত্তেজনার মধ্যে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৭ ডলারে পৌঁছেছে। তবে তেলবাহী জাহাজে হামলার বিষয়ে প্রকাশিত কিছু দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *