মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২২ জুন : পরপুরুষের হাত ধরে পালানো দুই সন্তানের জননীর মৃত্যু ঘটল স্বামীর হাতুড়ির আঘাতে। এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীভূমি জেলার বাজারিছড়া থানার অন্তর্গত সীমান্তবর্তী ঝেরঝেরি এলাকায়। মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, স্বামীর হাতুড়ির আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন সাহারা বেগম নামে এক গৃহবধূ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝেরঝেরি এলাকার পূর্ব হাতায়ারবন্দ গ্রামের বাসিন্দা ফুরকান উদ্দিনের সঙ্গে কটামণি ইচারপার এলাকার বাসিন্দা মুজিবুর রহমানের মেয়ে সাহারা বেগমের প্রায় ছয় বছর আগে সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি মেনে বিবাহ হয়। তাদের এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কিছুদিন আগে সাহারা বেগম স্থানীয় এক ব্যক্তি জসিম উদ্দিনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এরপর প্রায় পনেরো দিন আগে তিনি স্বামী-সংসার ছেড়ে জসিম উদ্দিনের সঙ্গে চলে যান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় একটি সালিশি সভারও আয়োজন করা হয়। সেখানে সাহারা বেগম ও জসিম উদ্দিনের সম্মতির ভিত্তিতে তাদের একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলে জানা গেছে। সে সময় সাহারা তার পুত্র সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে যান, আর কন্যা সন্তানটি ফুরকান উদ্দিনের কাছেই থেকে যায়।
রবিবার সাহারা বেগম ও জসিম উদ্দিন হঠাৎ ফুরকান উদ্দিনের বাড়িতে উপস্থিত হন। সেখানে কোনও একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে সাহারা ও ফুরকানের মধ্যে বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ফুরকান উদ্দিন হাতুড়ি দিয়ে সাহারার মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন এবং পরে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর জসিম উদ্দিন সেখান থেকে পালিয়ে গেলেও অভিযুক্ত ফুরকান উদ্দিন নিজেই নাগ্রা পুলিশ ওয়াচ পোস্টে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছান পাথারকান্দি সার্কল অফিসার অদিতি নুনিসা এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। তাঁদের উপস্থিতিতে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শ্রীভূমি জেলা হাসপাতালে পাঠায়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ফুরকান উদ্দিনকে বাজারিছড়া থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এদিকে, মৃতার বাবা মুজিবুর রহমান রাতেই বাজারিছড়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার নেপথ্যের সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় শোক ও উত্তেজনার পরিবেশ বিরাজ করছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণ সত্য উদ্ঘাটিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।



