আব্দুল হক, সোনাই।
বরাক তরঙ্গ, ২০ অক্টোবর : আর্থিক অনটনের মধ্যেও এবারের দুর্গাপূজায় মেতে উঠেছে সোনাই শহর ও আশপাশের এলাকা। নবমীর রাতে সোনাই শহর এলাকার একুশটি মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। এগুলোর মধ্যে মণ্ডপ ও সাজসজ্জার দিক থেকে আকর্ষণীয় করে তোলা হয় সোনাই নরসিং আখড়ার পূজা। তাই স্বাভাবিকভাবেই দর্শনার্থীদের ভিড় জমে ওঠে। এছাড়া সোনাই শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা উদীয়মান ক্লাব আয়োজিত মণ্ডপে দুর্গাপ্রতিমার আশীর্বাদ নিতে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।
তবে দু-একটি পূজামণ্ডপ ছাড়া সবক’টি পূজামণ্ডপে নেই নতুনত্ব। সেই পুরোনো ধাঁচেই সবকটি পূজামণ্ডপ গড়ে তোলা হয়। আর সাজসজ্জার দিকেও সেই পুরোনো ধাঁচ অবলম্বন করেছিল সবকটি পূজা কমিটি।
সোনাই শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা উদীয়মান ক্লাব আয়োজিত দুর্গাপূজায় নতুনত্ব নেই কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে পূজা কমিটির সভাপতি-সম্পাদক রাহুল দে মন্তব্য করেন, গোটা এলাকার দর্শনার্থীদের আকর্ষণ রয়েছে উদীয়মান ক্লাব আয়োজিত দুর্গাপূজায়। তাই আগামী দুর্গাপূজায় বড় বাজেটে আকর্ষণীয় করে তোলার প্রচেষ্টা চালানো হবে বলে সভাপতি ও সম্পাদক অভিমত ব্যক্ত করেন।
এদিকে, সোনাই শহরের কালীবাড়িতে দুর্গাপূজায় অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। ১৯৬৮ সালে স্থাপিত কালীবাড়িটির পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে অনেকটা পরিবর্তন এসেছে। একসময়ের ভাঙাচোরা, অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিস্থিতি আর নেই। ২০০৯ সাল থেকে মন্দিরসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিবর্তন এসেছে। গড়ে উঠেছে বিশাল ভবন আর মন্দিরের আমূল পরিবর্তন হয়েছে। বলতে গেলে, কালীবাড়ি মন্দির চত্বর ঝকঝকে করে তোলা হয়েছে।
দীর্ঘ বছর ধরে এ পর্যন্ত শ্রী শ্রী কালীবাড়ি মন্দির সর্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটির সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা ভজন সেন বলেন, একসময় কালীবাড়িটি ভাঙাচোরা পরিস্থিতিতে ছিল। ১৯৯২ সালে তৎকালীন সাংসদ কবীন্দ্র পুরকায়স্থের উন্নয়ন তহবিল থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে মন্দিরের উন্নয়ন শুরু হয়। মন্দির কমিটির তৎকালীন সভাপতি প্রদীপ বসাকের উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে অব্যাহত রাখতে প্রদীপ বসাকের স্থলে সভাপতি পদে প্রণব মজুমদার (রানা) দায়িত্ব লাভ করায় কম সময়ে মন্দিরের আমূল পরিবর্তন এসেছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন ভজন সেন।
তিনি বলেন, মন্দিরের আমূল পরিবর্তন এসেছে। তাই এবারের দুর্গাপূজায় অন্যান্য বছরের তুলনায় দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে শ্রীশ্রী শ্যামা কালী মন্দির সার্বজনীন দুর্গাপূজা। আগামীতে আরও পরিবর্তন ও আকর্ষণ বাড়াতে মন্দির কমিটি বিশেষ সংকল্প নিয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন ভজন সেন।




