করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতালের সমস্যা সমাধানে সরব জাকারিয়া

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৮ মে : শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার আগেই উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করে দিলেন উত্তর করিমগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিধায়ক জাকারিয়া আহমদ পান্না। সরকারি দায়িত্ব গ্রহণের আগেই এলাকার স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই নজর কাড়তে শুরু করেছেন।
শুক্রবার করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতালের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তিনি সরাসরি আসাম রাজ্য ডিরেক্টর অব হেলথ সার্ভিসেস দফতরে উপস্থিত হয়ে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত বৈঠক করেন। তাঁর এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য মহলে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

বৈঠকে বিধায়ক হাসপাতালের একাধিক জরুরি সমস্যা তুলে ধরেন। তিনি জানান, হাসপাতাল চত্বরের ভিতরে ও বাইরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং রক্ষণাবেক্ষণের দুর্বলতার কারণে রোগী ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিদিন বাড়তে থাকা রোগীর চাপ সামাল দিতে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্সিং স্টাফ নিয়োগের দাবিও জানান তিনি।
দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের জন্য বিনামূল্যে ওষুধের পর্যাপ্ত ও নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করার উপরও জোর দেন বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এছাড়াও হাসপাতালের আইসিইউ ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের মানোন্নয়ন ও আধুনিকীকরণের দাবি তোলেন তিনি। কিডনি রোগীদের সুবিধার্থে ডায়ালিসিস পরিষেবা সম্প্রসারণ ও আরও কার্যকর করার বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করেন।

বিশেষভাবে তিনি হাসপাতালের দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে থাকা লিফট দ্রুত মেরামত ও চালুর দাবি জানান। কারণ গুরুতর অসুস্থ রোগী, ডায়ালাইসিস গ্রহণকারী রোগী, প্রবীণ নাগরিক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এই লিফট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পাশাপাশি হাসপাতালের জেনারেটর ব্যবস্থা, এয়ার-কন্ডিশনিং সিস্টেম, অক্সিজেন সরবরাহ, এমআরআই সহ বিভিন্ন অত্যাবশ্যকীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের নিরবচ্ছিন্ন কার্যকারিতা নিশ্চিত করার বিষয়েও জোর দেন বিধায়ক। আধুনিক স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানের জন্য হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।

বৈঠকের শেষে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতালের ছোট-বড় বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেয়। পাশাপাশি হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

নবনির্বাচিত বিধায়কের এই সক্রিয় ভূমিকাকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। তাঁদের মতে, জাকারিয়া আহমদ পান্নার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে করিমগঞ্জের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *