মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৩০ মে : দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা শ্রীভূমি শহর থেকে সুতারকান্দি স্থলবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কের সংস্কারের দাবিতে এবার দিল্লিতে সরব হলেন করিমগঞ্জের সাংসদ কৃপানাথ মালা। শুক্রবার কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও জাতীয় মহাসড়ক বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অজয় টামটার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি সড়কটির জরুরি সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের দাবি জানান। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য।
সাক্ষাৎকালে প্রতিমন্ত্রীর হাতে একটি বিস্তারিত স্মারকলিপি তুলে দিয়ে সাংসদ সড়কটির করুণ অবস্থার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, শ্রীভূমি তথা সমগ্র বরাক উপত্যকার যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান ভরসা এই জাতীয় সড়ক। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র সুতারকান্দি স্থলবন্দরে পণ্য পরিবহনও মূলত এই সড়কের উপর নির্ভরশীল।

বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন অংশ ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, ছাত্রছাত্রী এবং যানবাহন চালকদের নিত্যদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বৃষ্টির জলে গর্তগুলো জলাশয়ে পরিণত হওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।
সাংসদ কৃপানাথ মালা ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলির দ্রুত পুনর্নির্মাণ, আধুনিক ও নিরাপদ অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং সুতারকান্দি স্থলবন্দরের সঙ্গে সংযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি জানান। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে, একই দিনে শ্রীভূমিতে জাতীয় সড়কের বেহাল অবস্থা ও শহরের জলজট সমস্যাকে কেন্দ্র করে একটি দীর্ঘ চার ঘণ্টাব্যাপী নাগরিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিপিনচন্দ্র পাল স্মৃতি ভবনে বিশিষ্ট সমাজসেবী সতু রায়ের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও বুদ্ধিজীবী মহলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক জাকারিয়া আহমদ (পান্না), দক্ষিণ করিমগঞ্জের বিধায়ক আমিনুর রশিদ চৌধুরী, বিজেপি জেলা সভাপতি সঞ্জীব বণিক, কংগ্রেস সভাপতি তাপস পুরকায়স্থ, বরিষ্ঠ আইনজীবী হাফিজ রশিদ আহমদ চৌধুরী, শিক্ষাবিদ ড. রাধিকারঞ্জন চক্রবর্তী, মনোনীলা নন্দী রায়, ব্যবসায়ী জগদীশ বণিক, আইনজীবী সুব্রত পাল, আতিকুর বারী চৌধুরী ও হবিবুর রহমান চৌধুরীসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।

সভায় জলজট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অবনতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে একটি নাগরিক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রয়োজনে বৃহত্তর গণআন্দোলন ও ধরনা কর্মসূচি গ্রহণের পাশাপাশি একটি প্রতিনিধিদল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।



