মসজিদে তালা ঝুলালেন বলে সমাজমাধ্যমে ভুয়ো প্রচার, আইনের পথে দঃ কৃষ্ণপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২ জুলাই : ‘২০০ বছরের পুরনো মসজিদে তালা ঝুলালেন ব্যবসায়ী’ এমন শিরোনাম দিয়ে সংবাদ আকারে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলেন দক্ষিণ কৃষ্ণপুরের বাসিন্দা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দানবীর ফখরুল ইসলাম বড়ভূইয়া। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক ডেকে মামলা দায়েরের কথা জানিয়েছেন তিনি। ফখরুল ইসলাম বলেন, মসজিদে আদৌ কোন তালা ঝুলানো হয়নি। কয়েকজন অসামাজিক ব্যক্তি মাদ্রাসার সামনে থাকা দোকানে তালা ঝুলিয়ে তাঁকে জড়িয়ে বদনাম করার ষড়যন্ত্র বলে জানান তিনি। শুধু তা নয়, ঘটনাটি সাজিয়ে তাঁর কাছে অর্থ দাবি করা হচ্ছে বলে জানান।

ফখরুল ইসলাম বড়ভূইয়া জানান, তিনি ঈদগাহ কমিটির সম্পাদক, মসজিদ কমিটির সঙ্গে তিনি জড়িত নন। বলেন, ঈদগাহ পুনর্নির্মাণ কাজ করতে গেলে ওইসব ব্যক্তি তাঁকে বারবার বাধা দেন, শেষ পর্যন্ত কাজ আর এগোতে দেননি। নানা ভাবে হয়রানি করতে শুরু করে তাঁরা। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, প্রয়াত এতিম আলি বড়ভূইয়া ও ছন্দা আলি বড়ভূইয়া তাঁর দাদু ১৯৩০ সালে মসজিদের জন্য দুই বিঘার বেশী জমি দান করেছিলেন। পরবর্তী নব্বই দশকে তাঁর বাবা ও কাকা অর্থাৎ এতিম আলির ছেলে আব্দুল লতিফ ও মন্তজিম আলি আরও কিছু জমি দান করেন ঈদগাহের জন্য। মাস তিনেক আগে তাঁকে ঈদগাহের সম্পাদকের দায়িত্ব দেন স্থানীয়রা। তিনি অসম্মতি জানিয়েছেন কিন্তু জোর করে দায়িত্ব সমঝে দেওয়া হয়। দায়িত্ব নিয়ে তিনি চাঁদা সংগ্রহ করে ঈদগাহের পুনর্নির্মাণের কাজে হাত লাগান। এরই মধ্যে তিনি নিজে উদ্যোগ নিয়ে মসজিদ কমিটি পুনর্গঠন করেন। কমিটি গঠনের পর তাঁর অভিযোগ তোলা হয়েছে তিনি নাকি সম্পাদক হওয়ার ইচ্ছে ছিল। এমন অভিযোগ তোলে তাঁর মানসম্মানে আঘাত করা হয়েছে বলে ক্ষোভ ব্যক্ত করেন। বড়ভূইয়া বলেন, এই অবস্থায় তিনি মসজিদ ও ঈদগাহের জমি মাপজোখ করতে উদ্যোগ নেন। আগে থেকেই তাঁদের পরিবারের অভিযোগ ছিল দান করা জমি থেকে বেশি জমি ভোগ করছে কমিটি। তিনি মাপজোখ করে জানতে পারেন ভারতমালা সড়ক নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণে মসজিদ থেকে তাদের জমি বেশি। অথচ একটাকাও তাঁরা পাননি। এই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ তুলেন। এসব বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে কয়েকজন লোক। এতে তিনি আইনের পথে হাঁটতে বাধ্য হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *