বরাক তরঙ্গ, ১২ সেপ্টেম্বর : স্বপ্ন ছিল বিদেশে পড়াশোনা করার। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পথ খুলে যাবে ইনস্টাগ্রাম স্ক্রল করতে গিয়ে—তা হয়তো ভাবেননি হাইলাকান্দির সোনাপুর গ্রামের মেয়ে প্রেরণা সিনহা। সামাজিক মাধ্যমের একটি বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করেই শুরু হয়েছিল তাঁর নতুন পথচলা। আর সেই পথ এবার তাঁকে নিয়ে যাচ্ছে ইতালিতে উচ্চশিক্ষার জন্য।
প্রেরণা হাইলাকান্দির প্রিসাইন্সিয়া সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের ২০২৫ ব্যাচের প্রাক্তন ছাত্রী। কলা বিভাগের এই ছাত্রী উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৭৮ শতাংশ নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে কলকাতায় আইইএলটিএস পরীক্ষায় সফল হওয়ার পর ইউরোপের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান তিনি। শেষ পর্যন্ত ইতালির মেসিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন নিয়ে পড়াশোনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেরণা। সেখানে প্রায় ২৮.৫ লক্ষ টাকার স্কলারশিপ বা স্টাইপেন্ড পাওয়ার সুযোগ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রিসাইন্সিয়ার অন্যতম ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. অভিজিৎ মিত্র।
জানা গেছে, প্রেরণা ‘ট্রান্সন্যাশনাল অ্যান্ড ইউরোপিয়ান লিগ্যাল স্টাডিজ’ নিয়ে পড়াশোনা করবেন। একই সঙ্গে ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়েও সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তবে ইতালির বিশ্ববিদ্যালয়কেই বেছে নিয়েছেন এই মেধাবী ছাত্রী।

গত শুক্রবার প্রিসাইন্সিয়া স্কুল প্রাঙ্গণে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে প্রেরণাকে সংবর্ধনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অ্যাকাডেমিক ডিরেক্টর অঞ্জনকুমার সাহা, অধ্যক্ষ ড. পারিজাত দেবরায়, ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. অভিজিৎ মিত্র, এডুকেশন বিষয়ের শিক্ষিকা গৌতমী শর্মা, বাংলার শিক্ষক ড. তীর্থঙ্কর চক্রবর্তী, ফিজিক্যাল এডুকেশনের শিক্ষিকা দেবস্মিতা পাল এবং সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক রোহিত মালাকার প্রমুখ।
অধ্যক্ষ ড. পারিজাত দেবরায় বলেন, কলা, বাণিজ্য বা বিজ্ঞান—যে বিভাগেরই শিক্ষার্থী হোক না কেন, নিজের রুচি ও মেধা অনুযায়ী নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্নের দিগন্ত উন্মুক্ত করে দেওয়াই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে প্রাপ্ত মৌলিক শিক্ষা কতটা কার্যকর ও সময়োপযোগী, বিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রছাত্রীর সাফল্য তার প্রমাণ। প্রেরণার ইতালিতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সেই ধারাবাহিকতারই আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ড. অভিজিৎ মিত্র বলেন, বরাক উপত্যকার অনেক মেধাবী ছাত্রছাত্রী উচ্চশিক্ষা বলতে মূলত ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা ভাবেন। কিন্তু প্রিসাইন্সিয়া শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের পরিধি আরও বিস্তৃত করতে চায়। প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর নিজস্ব প্রতিভা ও লক্ষ্য অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করাই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য।

প্রেরণা জানান, আর্থিক অবস্থা অনুকূল না হলেও তিনি কখনও নিজের স্বপ্নকে থামতে দেননি। নিজের খরচ চালানোর জন্য রাতে অনলাইনে কাজ করতেন। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় একদিন ইনস্টাগ্রাম স্ক্রল করতে গিয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি দেখতে পান। কৌতূহলবশত লিঙ্কটি অনুসরণ করে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন। পরে শিক্ষকদের পরামর্শ নিয়ে ধাপে ধাপে এগিয়ে যান।
সুজিত সিনহা ও পূরবী সিনহার কন্যা প্রেরণার এই সাফল্যে গর্বিত তাঁর পরিবার, বিদ্যালয় এবং হাইলাকান্দির বিভিন্ন মহল। সামাজিক মাধ্যমকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে জীবনের স্বপ্ন পূরণের এই ঘটনা কিশোর-কিশোরীদের মধ্যেও নতুন অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।



