আংশিক বিক্ষিপ্ত ঘটনার মধ্যেও পাথারকান্দিতে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ, ৯০ শতাংশ ভোটের হার

Spread the news

বুথ দখল, সংঘর্ষে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় নিয়ন্ত্রণে

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি। 
বরাক তরঙ্গ, ৯ এপ্রিল : বৃহস্পতিবার বিক্ষিপ্ত উত্তেজনা ও নানা অভিযোগের আবহের মধ্য দিয়েই পাথারকান্দি বিধানসভা কেন্দ্রে সম্পন্ন হল ভোটগ্রহণ পর্ব। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোটারদের উৎসাহ-উদ্দীপনা যেমন ছিল চোখে পড়ার মতো, তেমনি দিনভর একাধিক কেন্দ্র থেকে উঠে এসেছে  আংশিক বিশৃঙ্খলা ও সংঘর্ষের খবর।বৃহস্পতিবার সকাল সাতটা থেকে সমষ্টির মোট ২২৯টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ভোটদান প্রক্রিয়া শুরু হয়। নির্ধারিত সময় বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলেও, কিছু কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইনের কারণে ভোটগ্রহণ চলে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত। শতাংশ ভোট পড়েছে তা এসংবাদ সংগ্রহ পর্যন্ত  খবর মিলেনি। শেষ পর্যন্ত এই হার ৯০ শতাংশেরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে বলে জানা যায়। বুথ দখল ও সংঘর্ষের অভিযোগে উত্তেজনা ছড়ায় ভোটের দিন জুড়ে শাসক ও বিরোধী উভয় শিবির থেকেই বুথ দখল ও ছাপ্পা ভোট দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটে রাঙামাটি এলাকার ৫১৩ নম্বর এলপি স্কুল কেন্দ্রে। অভিযোগ, সকাল দশটা নাগাদ কংগ্রেস প্রার্থী কার্তিকসেনা সিনহা দলবল নিয়ে কেন্দ্রে ঢুকে হামলা চালান এবং বুথ দখলের চেষ্টা করেন। বিজেপির দাবি, তিনি জোরপূর্বক ছাপ্পা ভোটও প্রদান করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বাধে। এমনকি ইভিএম মেশিন ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান জেলা এসএসপি লীনা দুলে, নির্বাচনী পর্যবেক্ষক এবং সেনা বাহিনীর আধিকারিকরা। প্রায় আড়াই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়।

এদিন জামিনী মোহন গার্লস হাই স্কুল ও বিলবাড়ীর শ্রীরামকৃষ্ণ হাই স্কুল কেন্দ্রে কিছু সমস্যা দেখা দিলেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।এছাড়া সলগই ও রাধাপ্যারি জিপির দুটি কেন্দ্রে ছাপ্পা ভোটকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী কর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে প্রশাসন কড়া হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।বাজারিছড়া এলাকার কালাছড়া এলপি স্কুলের ১৫৮ নম্বর কেন্দ্রে ভোট দেন বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু পাল।

অন্যদিকে, বালিপিপলা হাইস্কুলের ২২৪ নম্বর কেন্দ্রে ভোট দেন কংগ্রেস প্রার্থী কার্তিকসেনা সিনহা। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া কংগ্রেস প্রার্থী কার্তিকসেনা সিনহা অভিযোগ করেন, বিজেপি তাদের ‘গুন্ডা বাহিনী’ ব্যবহার করে বিভিন্ন কেন্দ্রে বুথ দখল করেছে এবং কংগ্রেস কর্মীদের হেনস্থা করেছে। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বিতর্কিত কেন্দ্রগুলির সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার দাবি জানান নির্বাচন কমিশনের কাছে।

অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী ও প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল দাবি করেন, উন্নয়ন ও দেশের স্বার্থে মানুষ বিজেপির পক্ষেই বিপুলভাবে ভোট দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তৃতীয়বারের মতো রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন করবে এবং এজন্য সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এবার পাথারকান্দি ভোটার পরিসংখ্যান প্রকাশিত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, পাথারকান্দি কেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার। এর মধ্যে মুসলিম ভোটার প্রায় ৬০ হাজার বাঙালি হিন্দু প্রায় ৫০ হাজার চা বাগান সম্প্রদায় প্রায় ৪০ হাজার মণিপুরি ও অন্যান্য সম্প্রদায় প্রায় ৩০ হাজার। সব বিতর্ক, উত্তেজনা ও অভিযোগের মাঝেও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে গণতন্ত্রের উৎসব পূর্ণতা পেয়েছে। উচ্চ ভোটদানের হারই প্রমাণ করে—সব প্রতিকূলতার মধ্যেও গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা অটুট রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *