ইজরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট

Spread the news

৮ নভেম্বর : ইজরায়েলে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন বিরোধী শিবিরের নেতা গাদি আইজেনকট। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ দিয়েছেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান আইজেনকটকে। তবে পার্লামেন্টে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে তাঁকে কঠিন রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্য দিয়ে এগোতে হবে।
শনিবার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১২০ আসনবিশিষ্ট ইজরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে কোনও রাজনৈতিক দল বা জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার পর আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট হারজোগ।

সরকার গঠনের জন্য আইজেনকটকে ২৮ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে এই সময়সীমা আরও ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে। দায়িত্ব পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আইজেনকট বলেন, এখন একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের সময় এসেছে। জনগণের আস্থার মর্যাদা রক্ষায় তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি লিকুদ পার্টি ও তার মিত্ররা পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে আইজেনকটের মধ্যপন্থি ইয়াশার পার্টি এবং তার সহযোগী তিনটি বিরোধী দল সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ৪৮টি আসন। বাকি ১৯টি আসন পেয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন দুটি জোট—জয়েন্ট লিস্ট ও ইউনাইটেড আরব লিস্ট।

নির্বাচনে আরব দলগুলোর এই ফলাফল সরকার গঠনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাদের সমর্থন পেলে আইজেনকটের পক্ষে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা সম্ভব। তবে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন কিংবা তাদের সমর্থন নেওয়ার প্রশ্নে আইজেনকটের শিবিরের মধ্যেই মতপার্থক্য রয়েছে।

নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট হারজোগের সঙ্গে আলোচনায় নেসেটের ৬৭ জন সদস্যের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলো আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দেয়। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে অবস্থান নেন ৪৬ জন আইনপ্রণেতা। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইজরায়েলের আইন অনুযায়ী, নির্বাচনে সর্বাধিক আসন পাওয়া দলের নেতাকেই যে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। বরং কোন নেতা বিভিন্ন দলের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে বেশি সক্ষম, তা বিবেচনা করেই প্রেসিডেন্ট চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

এদিকে, নতুন সরকার গঠনে আইজেনকটের সামনে একাধিক সম্ভাবনা রয়েছে। আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন, আল্ট্রা-অর্থোডক্স দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা কিংবা নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন—সবকটি বিকল্প নিয়েই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। তবে প্রতিটি পথেই রয়েছে নানা জটিলতা ও মতবিরোধ।

অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর সরকার গঠনের সম্ভাবনাও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। তাঁর নেতৃত্বাধীন জোটের হাতে রয়েছে ৫৩টি আসন, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের চেয়ে আটটি কম। ফলে সরকার গঠন করতে হলে বিরোধী শিবিরের কোনও দলের সমর্থন আদায় করতে হবে তাঁকে।

উল্লেখ্য, ইজরায়েলে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের নজির রয়েছে। ২০২০ সালে পরপর তিনটি নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বেনি গ্যান্টস পালাক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের শর্তে সরকার গঠনের চুক্তি করেছিলেন।
নির্বাচনের পর থেকেই নতুন নির্বাচন এড়ানো এবং দেশে একটি স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন প্রেসিডেন্ট হারজোগ। ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার জেরে ইজরায়েলে পাঁচবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবারও সরকার গঠনে ব্যর্থতা দেখা দিলে দেশটি ফের একই ধরনের রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র : রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), খবর : দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা ডিজিটাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *