কিশোর নাথের হস্তক্ষেপে এনআইটি অস্থায়ী কর্মীদের অনশন ভঙ্গ

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১২ আগস্ট : এনআইটি শিলচরে চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে অনশনে থাকা চতুর্থ শ্রেণির ও ক্যাজুয়াল কর্মীদের আন্দোলনে বুধবার বড় ধরনের অগ্রগতি দেখা গেল। গত ১০ আগস্ট থেকে অনশনে বসা কর্মীদের দাবি, প্রায় ৩৭ বছর ধরে এনআইটিতে কাজ করেও তাঁদের চাকরি এখনও স্থায়ী করা হয়নি। একাধিকবার কর্তৃপক্ষ, পরিচালক ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে আশ্বাস মিললেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।

পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে বিধায়ক কিশোর নাথ সরাসরি অনশনস্থলে পৌঁছে আন্দোলনরত কর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন। কর্মীরা তাঁদের দীর্ঘদিনের সমস্যা, বিভিন্ন সময়ে পাওয়া প্রতিশ্রুতি এবং কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা না পাওয়ার বিষয়টি বিধায়কের সামনে তুলে ধরেন। অনশনের কারণে দুজন কর্মী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও তাঁরা জানান।

কর্মীরা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। এরপর বিধায়ক কিশোর নাথ তাঁদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা আমাকে বিশ্বাস করেন তো? আপনাদের সমস্যার সমাধানের জন্য যা যা করণীয়, আমি সবই করব। দয়া করে অনশন ভঙ্গ করুন।”

এরপর বিধায়ক এনআইটির পরিচালক দিলীপ কুমার বৈদ্যের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেন এবং কর্মীদের চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। দীর্ঘ আলোচনার পর সমাধানের আশ্বাস পাওয়া গেলে বিধায়ক নিজে অনশনরত কর্মীদের হাতে আহার তুলে দিয়ে তাঁদের অনশন ভঙ্গ করান।

বিধায়ক জানান, তিনি বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং কর্মীদের চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের চেষ্টা করবেন। অনশনরত কর্মীরা বলেন, ডিলিমিটেশনের পর তাঁদের এলাকা বিধায়ক কিশোর নাথের বিধানসভা এলাকার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তাঁরা বলেন, “আপনি কথা রাখেন—এমন একজন বিধায়ককে আমরা পেয়েছি। আপনার প্রতি বিশ্বাস রেখেই এবং আপনার আশ্বাসে আমরা অনশন ভঙ্গ করলাম। আমরা বিশ্বাস করি, আপনি আমাদের সমস্যার সমাধান করতে পারবেন।”

এদিকে, অনুষ্ঠানে উপস্থিত এনআইটির পরিচালক দিলীপ কুমার বৈদ্যও বিষয়টি সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বিধায়কের হস্তক্ষেপে আপাতত পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে এলেও কর্মীরা তাঁদের দীর্ঘ ৩৭ বছরের দাবির স্থায়ী সমাধানের প্রত্যাশায় রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *