মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১৩ জুন : পাথারকান্দিতে চুরির ঘটনা যেন দিন দিন উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। রাত নামলেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন সাধারণ মানুষ। দোকান, বসতবাড়ির পর এবার চোরের নিশানায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থান। একই রাতে থানার অদূরে একটি বেসরকারি স্কুল এবং একটি নবনির্মিত মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় সমগ্র এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার গভীর রাতে পাথারকান্দি থানা থেকে প্রায় ৮০০ মিটার দূরে অবস্থিত প্রণবানন্দ বিদ্যা মন্দিরে হানা দেয় একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র। চোরেরা প্রথমে প্রধান ফটকের তালা ভেঙে বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে এবং একাধিক কক্ষ তছনছ করে মূল্যবান সামগ্রী ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে যায়। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, চুরি যাওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে গুরুগৃহে ব্যবহৃত পিতলের কাঁসর-ঘণ্টা, বেল, বিভিন্ন পূজার সামগ্রী এবং একটি জলের মোটর পাম্প। শনিবার সকালে বিদ্যালয় খোলার পর কর্মচারীরা ভাঙা তালা ও এলোমেলো অবস্থা দেখতে পেয়ে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এদিকে, বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সামনে আসে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। একই রাতে পাথারকান্দি রেলস্টেশন সংলগ্ন নবনির্মিত শনি মন্দিরেও চুরি সংঘটিত হয়েছে।
জানা গেছে, মন্দিরের স্টোররুমের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দুষ্কৃতীরা। সেখান থেকে একটি গ্যাস সিলিন্ডার, জলের মোটর পাম্পসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, মন্দিরের চূড়ায় স্থাপিত পিতলের কলসও খুলে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে চোরেরা। স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু চুরি নয়, ধর্মীয় অনুভূতির ওপরও আঘাত। একই রাতে পাশাপাশি দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত চুরির ঘটনায় পাথারকান্দি জুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।



