মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২৪ মে : বরাক উপত্যকার গর্বের মুকুটে যুক্ত হলো আরও এক সাফল্যের পালক। শ্রীভূমির করিমগঞ্জ কলেজের এনসিসি ক্যাডেট রাজশ্রী রায় ৫০৩০ মিটার উচ্চতার দুর্গম মাউন্ট রেনক জয় করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। ৪ আসাম ব্যাটালিয়ন এনসিসি পরিচালিত “মাউন্ট রেনক অভিযান”-এ অংশ নিয়ে এই অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি। তাঁর এই সাফল্যে গোটা শ্রীভূমি জেলা, বরাক উপত্যকা তথা অসম জুড়ে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে।
দুর্গম পাহাড়ি পথ, তীব্র ঠান্ডা, বরফে ঢাকা বিপজ্জনক ট্র্যাক এবং অক্সিজেনের স্বল্পতার মতো প্রতিকূল পরিস্থিতিকে অতিক্রম করে রাজশ্রী যেভাবে শিখরে পৌঁছেছেন, তা সকলের কাছে অনুপ্রেরণার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ৪ আসাম ব্যাটালিয়নের প্রথম মহিলা ক্যাডেট হিসেবে এই সাফল্য অর্জন করায় তাঁর কৃতিত্ব আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রাজশ্রী রায়ের এই ঐতিহাসিক সাফল্যে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন পাথারকান্দির তিনবারের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল। এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, রাজশ্রীর সাহস, আত্মবিশ্বাস ও অদম্য মানসিক শক্তি বর্তমান প্রজন্মের কাছে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তিনি উল্লেখ করেন, কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে যে কোনও স্বপ্ন বাস্তবায়িত করা সম্ভব— রাজশ্রী তার উজ্জ্বল উদাহরণ। কৃষ্ণেন্দু পাল আরও বলেন, এনসিসি শুধুমাত্র একটি প্রশিক্ষণমূলক সংগঠন নয়, বরং এটি নেতৃত্ব, দেশপ্রেম, আত্মনির্ভরতা ও চরিত্র গঠনের এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র। রাজশ্রী তাঁর সাফল্যের মাধ্যমে এনসিসির প্রকৃত আদর্শকে তুলে ধরেছেন।
এছাড়াও করিমগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ৪ আসাম ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রশিক্ষণের ফলেই রাজশ্রী আজ এই গৌরবময় সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন বিধায়ক।
রাজশ্রী রায়ের এই বিজয় আজ শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বরাক উপত্যকার আত্মবিশ্বাস, সাহস ও স্বপ্নজয়ের প্রতীক হয়ে ইতিহাসে স্থান করে নিল।



