বরাক তরঙ্গ, ৩ জুলাই : অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন নলবাড়ির রাজপথে সংঘটিত নৃশংস হামলার শিকার মৃদুমুদ্রা ডেকা। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গৌহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (জিএমসিএইচ)-এ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। আজ, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় জিএমসিএইচ কর্তৃপক্ষ তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

গত ৩১ মে নলবাড়িতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা রাজ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। রোজ আলি নামে এক যুবকের হামলায় গুরুতর জখম হন মৃদুমুদ্রা ডেকা। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তাঁর ভাই মাধুর্য বর্মন। পরে পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয় অভিযুক্ত রোজ আলি।
৩১ মে সন্ধ্যায় নলবাড়ির গঙ্গাপুর এলাকায় প্রকাশ্য রাস্তায় মৃদুমুদ্রা ডেকা ও তাঁর ভাই মাধুর্য বর্মনের ওপর নৃশংস হামলা চালায় রোজ আলি। হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন মৃদুমুদ্রা। তবে বোনকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে মাধুর্য বর্মনের ওপর এলোপাতাড়ি আক্রমণ চালায় অভিযুক্ত। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ছাত্রনেতা মাধুর্য বর্মনের।
জানা গেছে, সেদিন মাধুর্য ও মৃদুমুদ্রা নলবাড়ি থেকে বই কিনে স্কুটারে করে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময়ই তাদের ওপর এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়।
এই হামলায় মাধুর্য বর্মনের মৃত্যু হলেও গুরুতর আহত অবস্থায় মৃদুমুদ্রাকে ভর্তি করা হয় গৌহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পর শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানেন তিনি।


ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিল অভিযুক্ত রোজ আলি। পরে ১ জুন নলবাড়ির মুকালমুয়া এলাকায় পুলিশের অভিযানের সময় এনকাউন্টারে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ জানায়, আত্মগোপন করে থাকা রোজ আলিকে গ্রেপ্তারের সময় সে পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।



