
শ্রীভূমিতে ভয়ঙ্কর ভূমিধস, ধ্বংসস্তূপে পরিণত বাড়ি আতঙ্কে এলাকাবাসী
মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১৯ মে : শ্রীভূমি জেলার ব্রাহ্মণশাসন এলাকায় ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃতির আকস্মিক রুদ্ররূপে মুহূর্তের মধ্যে তছনছ হয়ে যায় একটি পরিবারের স্বপ্নের ঘর। তবে সবকিছুর মাঝেও সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে।ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীভূমি জেলার ব্রাহ্মণশাসন এলাকার লাটিরগাঁঠ নামক পাহাড়ি অঞ্চলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোররাতে আচমকাই পাহাড়ের একাংশ ধসে পড়ে মান্না (মিঠুন) মহন্তের বাড়ির উপর। তখন ঘরের ভিতরে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও ছোট সন্তান। হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ। মুহূর্তের মধ্যেই বিশাল পরিমাণ মাটি ও পাথর ঘরের উপর এসে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাড়ির একাংশ মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। সেই সময় ঘরের ভিতরে থাকা মা ও সন্তান মাটির নিচে আটকে পড়েন। চারদিকে শুরু হয় চিৎকার আর আতঙ্ক। পরিবারের কর্তা মান্না মহন্ত তখন প্রাণপণ চেষ্টা চালান স্ত্রী ও সন্তানকে বাঁচানোর জন্য। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তিনি মাটির স্তূপ সরানোর কাজ শুরু করেন। পরে আশেপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধার কাজে হাত লাগান। দীর্ঘ চেষ্টার পর অবশেষে মা ও শিশুকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
জানা গেছে, বেশ কিছু সময় মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকার কারণে শিশুটি পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছে। আহত শিশুকে দ্রুত স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে শিশুটির অবস্থা স্থিতিশীল। যদিও ঘটনাটি অত্যন্ত ভয়াবহ ছিল, তবুও কোনো প্রাণহানির ঘটনা না ঘটায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন এলাকাবাসী।ভূমিধসের জেরে মান্না মহন্তের বাড়িটি সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাড়ির আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং বহু মূল্যবান সামগ্রী মাটির নিচে চাপা পড়েছে বলে জানা গেছে। এক মুহূর্তে মাথার উপর থেকে ছাদ হারিয়ে বর্তমানে অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে পরিবারটিকে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত কয়েকদিন ধরে অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ের মাটি অত্যন্ত নরম ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে হয়তো এমন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। এলাকাবাসীর অভিযোগ, পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধস রোধে কোনও স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না, যার ফলে প্রতি বর্ষাতেই আতঙ্কে দিন কাটাতে হয় সাধারণ মানুষকে।ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমায় বহু মানুষ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর দাবিও উঠেছে। পাশাপাশি পরিবারটির জন্য সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে দিল, পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষের জীবন কতটা অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ। বর্ষা এলেই ভূমিধসের আতঙ্ক যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়ায় তাঁদের জীবনে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি ক্রমশ জোরালো হয়ে উঠছে।



