৩০ আগস্ট: আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তা দিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। শনিবার নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়্যারে ‘এক বিশ্ব, এক মানবতা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, মানুষের মধ্যে কোনও বিভেদ নেই এবং ভারতে মুসলিমদের তাড়িয়ে দেওয়ার কথা যারা বলেন, তাঁরা হিন্দুত্বের মূল ধারণা বোঝেন না।
অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের উত্তরে ভাগবত বলেন, যে হিন্দুরা মনে করেন ভারত থেকে মুসলিমদের বের করে দেওয়া উচিত, তাঁরা হিন্দুত্বের মূল ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নন। আরএসএসের সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, জনসেবার ক্ষেত্রে ধর্মের ভিত্তিতে কোনও ধরনের বৈষম্য করে না সংঘ।
আরএসএসকে ঘিরে বিভিন্ন ধারণা ও সমালোচনা প্রসঙ্গে ভাগবত বলেন, সংঘ তাদের কাজের প্রচার করে না। কারণ জনসেবার বিনিময়ে তাদের কোনও প্রত্যাশা নেই। তাঁর কথায়, “সংঘে আমরা শুধু দিই, কিছুই চাই না। তাই প্রচারের ক্ষেত্রে আমরা অনেক পিছিয়ে।” সংঘকে নিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধারণার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভুল বয়ানের মাধ্যমে অনেক নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। তবে মানুষ যদি সংঘের কর্মকাণ্ড কাছ থেকে দেখেন, তাহলে সেই ধারণাগুলির অনেকটাই একসময় অবিশ্বাস্য বলে মনে হবে।
এদিন বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন আরএসএস প্রধান। তাঁর মতে, সমাজে ঐক্য ও সম্প্রীতি গড়ে তুলতে শুধুমাত্র রাজনৈতিক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। পরিবর্তনের সূচনা হতে হবে সমাজের ভিতর থেকেই।
ভাগবতের বক্তব্য, বর্তমান রাজনীতি জনমতের ওপর নির্ভরশীল। জনমত তৈরি হলে কোনও রাজনীতিকই সহজে তার বিরুদ্ধে যাওয়ার সাহস করবেন না। তাই শুধুমাত্র রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তাঁর মতে, মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং নিঃস্বার্থ সেবার মাধ্যমেই সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে উঠতে পারে। ছোট ছোট গোষ্ঠী একসঙ্গে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করলে ধীরে ধীরে তা বৃহত্তর সেবা ও ঐক্যের নেটওয়ার্কে পরিণত হতে পারে। ভাগবত বলেন, তাঁর এই চিন্তার শিকড় রয়েছে ভারতের ঐতিহ্যবাহী দর্শনে। সেখানে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মানবজাতির ঐক্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “এটাই ভারতের ঐতিহ্যবাহী চিন্তা—মানবতার ঐক্য।” স্বাধীনতার পর দেশের সংবিধানেও এই ভাবনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।



