বরাক তরঙ্গ, ১৯ আগস্ট : অসমে শিল্প বিনিয়োগের গতি বাড়াতে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্য সরকার। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বুধবার জাগিরোডে টাটা সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি অ্যান্ড টেস্টিং ফ্যাসিলিটির জন্য নির্মীয়মাণ জল সরবরাহ প্রকল্পের পরিকাঠামো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন অসম সরকারের জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পার্বত্য ও বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল।
পরিদর্শনের সময় প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি, নির্মাণকাজের পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন মন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের জল ও স্যানিটেশন শাখার চিফ ইঞ্জিনিয়ার, এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারসহ অন্যান্য আধিকারিকরা।

টাটা সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্পের মতো উচ্চপ্রযুক্তিনির্ভর বৃহৎ শিল্প স্থাপনার জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত জল সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রকল্পের জল পরিকাঠামো দ্রুত, কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণের গুণমান বজায় রাখার জন্যও আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাগিরোডে টাটার সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্পকে অসমের শিল্পায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের প্রসারের পাশাপাশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
একটি বৃহৎ শিল্প প্রকল্পকে কেন্দ্র করে জাগিরোড ও সংলগ্ন এলাকায় সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, জল সরবরাহ, পরিবহণ, আবাসনসহ বিভিন্ন সহায়ক পরিকাঠামোরও উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে প্রকল্পটি অসমের শিল্প ও অর্থনৈতিক মানচিত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের মাঠপর্যায়ের এই পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রকল্পের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সম্ভাব্য সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করা এবং কাজের গতি বাড়ানো। সরকারের লক্ষ্য, শিল্প বিনিয়োগকারীদের জন্য শুধু জমি ও অনুমোদনের ব্যবস্থা নয়, শিল্প পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত মৌলিক পরিকাঠামোও সময়মতো প্রস্তুত করা।

অসমকে উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও প্রযুক্তি কেন্দ্রে পরিণত করার বৃহত্তর পরিকল্পনায় জাগিরোডের টাটা প্রকল্প অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। দ্রুত পরিকাঠামো নির্মাণ, নতুন বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে এই প্রকল্প আগামী দিনে রাজ্যের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



