কুশিয়ারা নদীতে পিতৃপুরুষের ১৪ পুরুষের উদ্দেশ্যে বাতি ভাসালেন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৮ নভেম্বর : দীপান্বিতা কালীপুজোর প্রাক্কালে পারিবারিক ঐতিহ্য ও ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কুশিয়ারা নদীতে পিতৃপুরুষের ১৪ পুরুষের উদ্দেশ্যে বাতি ভাসালেন রাজ্য সরকারের জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পার্বত্য এলাকা ও বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল।

রবিবার সন্ধ্যায় শ্রীভূমি শহরের বিসর্জন ঘাটে বড় ভাই কল্যাণ পালকে সঙ্গে নিয়ে এই বিশেষ ধর্মীয় আচার পালন করেন মন্ত্রী। কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে প্রচলিত পারিবারিক রীতি অনুসরণ করে নদীর জলে প্রদীপ ভাসিয়ে পূর্বপুরুষদের পারলৌকিক আত্মার শান্তি ও মোক্ষলাভ কামনায় প্রার্থনা জানান তাঁরা।

হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রাচীন ঐতিহ্য অনুসারে, দীপাবলির প্রাক্কালে চতুর্দশী তিথিতে পূর্বপুরুষদের স্মরণে প্রদীপ প্রজ্বলন ও নদীর জলে বাতি ভাসানোর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। এই আচার পালনের মধ্য দিয়ে পিতৃপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি তাঁদের আত্মার শান্তি ও সদ্গতি কামনা করা হয়।

সেই সুপ্রাচীন পারিবারিক ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল ও তাঁর বড় ভাই কল্যাণ পাল কুশিয়ারা নদীর বুকে ১৪ পুরুষের উদ্দেশ্যে বাতি ভাসিয়ে তাঁদের স্মরণ করেন। নদীর বুকে ভাসমান প্রদীপের আলোয় যেন অতীত ও বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে এক আত্মিক সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও পারিবারিক সংস্কার, ধর্মীয় বিশ্বাস এবং পূর্বপুরুষদের স্মরণে এই আয়োজন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। নিজেদের পারিবারিক ঐতিহ্য ও শিকড়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দুই ভাইয়ের এই নিবেদন উপস্থিতদের কাছে এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি করে।

দীপান্বিতা কালীপুজোর আলো ও ভক্তির আবহে কুশিয়ারা নদীর বুকে ভাসমান প্রদীপ হয়ে উঠল পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা, স্মরণ এবং আত্মিক প্রার্থনার এক অনন্য প্রতীক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *