৭ মে : আর মাত্র দু’দিন পরেই নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। তার আগেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে জোর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ ইস্যুকে কেন্দ্র করে। নির্ধারিত মেয়াদের শেষ দিনেও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা না দেওয়ায় শুরু হয় জোর বিতর্ক। শেষপর্যন্ত ভারতীয় সংবিধানের বিধান মেনে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি।
জানা গেছে, ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ২ নম্বর দফার (খ) উপদফায় প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে রাজ্যপাল এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করেছেন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা।
রাজ্যপালের এই সিদ্ধান্তের ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে ইতি পড়ল ১৭তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার কার্যকাল। একইসঙ্গে নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ১৮তম বিধানসভা গঠনের পথও সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে গেল। আগামী দু’দিন রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্ব রাজ্যপালের হাতেই থাকবে বলে সূত্রের খবর।
এদিকে, নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর থেকেই পরাজয় মেনে নিতে নারাজ ছিলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পদত্যাগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠতেই ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি দাবি করেছিলেন, “আমরা হারিনি, আমাদের ১০০টি আসন লুঠ করা হয়েছে।” সেই কারণেই তিনি পদত্যাগে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন বলেও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়াতেও ব্যাপক বিতর্ক দেখা দেয়।
অন্যদিকে, রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিন কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের সূচনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। পাশাপাশি বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ব্রিগেডের ভেতরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে এসপিজি ও কলকাতা পুলিশ, আর বাইরে মোতায়েন থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী।



