আর্থিক অনটনকে পেছনে ফেলে AI-র জগতে বিরাটের স্বপ্নের উড়ান

Spread the news

শমীন্দ্র পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ২০ আগস্ট :
আর্থিক সচ্ছলতা নেই, নেই অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব কিংবা দামি প্রযুক্তি সরঞ্জাম। পরিবারের পুরনো একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনকেই সঙ্গী করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা Artificial Intelligence (AI)-এর জগতে নিজের পথ তৈরি করার স্বপ্ন দেখছে কাছাড় জেলার কাটিগড়া বিধানসভা কেন্দ্রের সিদ্ধেশ্বরের এক কিশোর। বয়স মাত্র স্কুলপড়ুয়ার, বর্তমানে দশম শ্রেণির ছাত্র। কিন্তু প্রযুক্তির প্রতি অদম্য কৌতূহল, নিজের উদ্যোগে শেখার আগ্রহ এবং নতুন কিছু করার প্রত্যয় ইতিমধ্যেই তাকে করে তুলেছে ব্যতিক্রমী। এই কিশোরই বিরাট শুক্লবৈদ্য।

কাছাড় জেলার কাটিগড়া বিধানসভা কেন্দ্রের সিদ্ধেশ্বর এলাকার বাসিন্দা বিরাট প্রায় তিন বছর ধরে AI ও প্রযুক্তি নিয়ে নিয়মিত চর্চা করছে। শিক্ষক ও বন্ধুদের অনুপ্রেরণায় অনলাইনে বিভিন্ন AI কোর্স করার পাশাপাশি নিজের উদ্যোগে প্রযুক্তির নানা দিক নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে সে।

বিরাটের প্রযুক্তির জগতে এগিয়ে চলার গল্প আরও বিস্ময়কর। কোনও অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব বা দামি সরঞ্জাম নয়, পরিবারের একটি পুরনো অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনকেই সঙ্গী করে AI শেখার যাত্রা শুরু করে সে। তার বাবা পাপলু শুক্লবৈদ্য এবং মা রুমা শুক্লবৈদ্যও হয়তো শুরুতে ধারণা করতে পারেননি যে তাঁদের একমাত্র ছেলে একটি সাধারণ মোবাইল ফোন নিয়ে অনুসন্ধান করতে করতে এতদূর এগিয়ে যাবে। বাবার একটি ছোট্ট লাইব্রেরি রয়েছে, সেটা দিয়েই পরিবার প্রতিপালন করেন তিনি। আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও শেখার অদম্য ইচ্ছাই বিরাটের প্রধান শক্তি। বর্তমানে পড়াশোনার পাশাপাশি গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজও করছে এবং নিজের উদ্যোগে একটি স্টুডিও গড়ে তুলেছে।

এখানকার হোলি ফ্লাওয়ার সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র বিরাটের লক্ষ্য শুধু নিজে প্রযুক্তি শেখা নয়। AI-কে শিক্ষাক্ষেত্রে কাজে লাগিয়ে পড়াশোনাকে আরও সহজ, আকর্ষণীয় ও ইন্টারেক্টিভ করে তোলার স্বপ্ন দেখছে সে। অনলাইন কোচিং ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ “ASCEND STUDIO AI Educational Initiative”-এর মাধ্যমে একটি শিক্ষামূলক অ্যাপ তৈরির কাজেও এগিয়ে যাচ্ছে বিরাট। ইতোমধ্যে সিদ্ধেশ্বর উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ও হোলি ফ্লাওয়ার সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সামনে AI জেনারেটরসহ আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে কীভাবে শিক্ষাদানকে আরও আকর্ষণীয় করা যায়, তার প্রদর্শনী করেছে সে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে AI সম্পর্কে আগ্রহ তৈরি করতে সচেতনতামূলক ক্লাসও নিয়েছে।

ভবিষ্যতে AI শেখার প্রতি আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্প খরচে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে বিরাটের। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, AI শেখার জন্য মাসিক ২০ টাকা এবং পড়াশুনায় বিভিন্ন বিষয়ে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাসহায়তার জন্য মাসিক ৯৯ টাকা ফিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্কুলের পড়াশোনার পাশাপাশি AI, গ্রাফিক্স ডিজাইন ও প্রযুক্তিনির্ভর কাজকে ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় এই কিশোর। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও নিজের পুরনো মোবাইল ফোনকে হাতিয়ার করে এগিয়ে চলা বিরাটের এই পথচলা ইতিমধ্যেই সিদ্ধেশ্বরে তৈরি করেছে নতুন আশার গল্প। তার স্বপ্ন, একদিন নিজের শেখা প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে শুধু নিজের ভবিষ্যৎ নয়, অন্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎও আরও সম্ভাবনাময় করে তোলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *