বিলবাড়ি শ্রীকৃষ্ণ রাম হাইস্কুলে বিদ্যাসাগরের প্রতিমূর্তি উন্মোচন  কৃষ্ণেন্দু পালের

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২৬ সেপ্টেম্বর : ঐতিহ্য ও গৌরবের সাত দশকের পথচলা পূর্ণ করল পাথারকান্দি বিধানসভা কেন্দ্রের কলকলিঘাট এলাকার বিলবাড়ি শ্রীকৃষ্ণ রাম হাইস্কুল। বিদ্যালয়ের ৭০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত হল বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের দীর্ঘ পথচলার স্মৃতি, শিক্ষা-সংস্কৃতির ঐতিহ্য এবং ভবিষ্যতের নানা পরিকল্পনা উঠে আসে।

বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বাংলার নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ, শিক্ষাবিদ ও সমাজসংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রতিমূর্তি উন্মোচন। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রতিমূর্তির আবরণ উন্মোচন করে বিদ্যাসাগরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পাথারকান্দির বিধায়ক তথা মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, সাত দশকের ঐতিহ্য বহনকারী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে তিনি গর্বিত। বিদ্যাসাগরের মতো মহান মনীষীর প্রতিমূর্তি উন্মোচনের সুযোগ পাওয়াও তাঁর কাছে বিশেষ গৌরবের বিষয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিদ্যাসাগরের জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বিধায়ক বলেন, শিক্ষা, সমাজসংস্কার ও নারী জাগরণের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং নারী শিক্ষার প্রসারে তাঁর ভূমিকা আজও সমাজের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। বাংলা ভাষা ও শিক্ষার প্রসারেও বিদ্যাসাগরের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পরে বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন কৃষ্ণেন্দু পাল। তিনি বিদ্যাসাগরের সংগ্রামী জীবনের নানা দিক ছাত্রছাত্রীদের সামনে তুলে ধরেন। আর্থিক প্রতিকূলতা ও নানা বাধা সত্ত্বেও কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে কীভাবে বিদ্যাসাগর সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছিলেন, সেই কাহিনি পড়ুয়াদের শোনান তিনি।

ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, জীবনে প্রতিকূলতা আসবেই। তবে বাধার কাছে হার না মেনে শিক্ষাকে হাতিয়ার করে এগিয়ে যেতে হবে। নিয়মিত পড়াশোনা, শৃঙ্খলা, নৈতিক মূল্যবোধ ও মানবিকতার চর্চার মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।

সাত দশকের পথচলায় বিলবাড়ি শ্রীকৃষ্ণ রাম হাইস্কুল এই অঞ্চলের বহু প্রজন্মের শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক, পড়ুয়া, অভিভাবক এবং এলাকাবাসীর কাছে ৭০তম বর্ষপূর্তি তাই হয়ে ওঠে আবেগ ও গর্বের বিশেষ মুহূর্ত। বিদ্যাসাগরের আদর্শকে সামনে রেখে আগামী প্রজন্ম আরও শিক্ষিত, মানবিক ও আলোকিত সমাজ গড়ে তুলবে—এই প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে স্মরণীয় হয়ে রইল বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *