বরাক তরঙ্গ, ২৩ আগস্ট : অসমের রেজিস্ট্রেশনযুক্ত পর্যটকবাহী গাড়ির বিরুদ্ধে নিজেদের ধর্মঘট ও নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে খাসি মেঘালয় ট্যুরিস্ট ট্যাক্সি অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অসমের নম্বরযুক্ত পর্যটকবাহী গাড়িকে মেঘালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি মেঘালয়ের স্থানীয় পর্যটকবাহী গাড়িগুলোকেও অসম সীমান্তের কাছে জোরাবাট পর্যন্ত চলাচল সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার সকাল ৮টা থেকে বর্নিহাটে চলমান প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সব স্থানীয় পর্যটক গাড়ির চালক ও মালিককে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। ফলে আন্তঃরাজ্য পর্যটকবাহী গাড়ির চলাচল নিয়ে অসম ও মেঘালয়ের মধ্যে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মেঘালয়ের পর্যটকবাহী গাড়িগুলো যাত্রীদের জোরাবাটে নামিয়ে দেবে। এরপর ওই গাড়িগুলো অসমের অভ্যন্তরে প্রবেশ করবে না। ট্যাক্সি চালকদের বর্তমান পরিস্থিতি এবং অসমের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
সাম্প্রতিক অসম-মেঘালয় উত্তেজনার সময় গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মেঘালয় সরকারের ভূমিকারও সমালোচনা করেছে সংগঠনটি। তাদের অভিযোগ, অসমের রেজিস্ট্রেশনযুক্ত গাড়ির ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও অসমে মেঘালয়ের ট্যাক্সিগুলোর ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সংগঠনের আরও অভিযোগ, মেঘালয়ের উপমুখ্যমন্ত্রী অসমে বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নিলেও বার্নিহাটে আন্দোলনরত পর্যটক গাড়ির চালকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেননি। চালকদের সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে সব স্থানীয় পর্যটকবাহী গাড়ির মালিক ও চালককে সকাল ৮টা থেকে বর্নিহাটের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি মেঘালয়ের গাড়িগুলোকে জোরাবাট পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে অসম-মেঘালয় পর্যটন যোগাযোগ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গুয়াহাটি-শিলং রুটের গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট জোরাবাট দুই রাজ্যের মধ্যে পর্যটকদের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার। ফলে গাড়ি চলাচলে বিধিনিষেধের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে পর্যটক, পরিবহন ব্যবসায়ী এবং আন্তঃরাজ্য যাতায়াতনির্ভর বিভিন্ন ব্যবসার ওপর।
সংগঠনের বক্তব্য, তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য মেঘালয়ের পর্যটকবাহী গাড়ির চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় গাড়িগুলোর বিষয়ে যথাযথ সরকারি পদক্ষেপ নিশ্চিত করা।
শিলংয়ে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ও পরবর্তী আন্তঃরাজ্য উত্তেজনার পর দুই রাজ্যের সরকার যখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে, তখনই পর্যটকবাহী গাড়ি চলাচলকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ফলে বর্নিহাট ও জোরাবাট আগামী দিনেও অসম-মেঘালয় সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ স্পর্শকাতর এলাকা হয়ে থাকতে পারে। দুই রাজ্যের সরকার আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত পরিস্থিতির সমাধান করতে পারে কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।



