১০ সেপ্টেম্বর : যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েট শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে উত্তর আমেরিকার মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন ইসলামিক সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকা (ইসনা)-র ৬৩তম কনভেনশন। লেবার ডে সপ্তাহান্তে ডেট্রয়েট রিভারের তীরে হান্টিংটন প্লেইস কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৫০ হাজার মুসলমান অংশ নেন।
ইসনা কনভেনশন উত্তর আমেরিকার মুসলিম সমাজের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলা হিসেবে পরিচিত। মুসলিম বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও তরুণদের পাশাপাশি মূলধারার বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারাও এই সম্মেলনে অংশ নিয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন। ফলে আমেরিকান রাজনীতিতেও ইসনা কনভেনশনের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মুসলিম শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, অধ্যাপক, গবেষক, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদদের অংশগ্রহণে প্রতিবছরই প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এই সম্মেলন। ইসনা মূলত একটি আমব্রেলা সংগঠন। এর অধীনে রয়েছে একাধিক সহযোগী ও অঙ্গসংগঠন, যাদের কার্যক্রম উত্তর আমেরিকার মুসলিম সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রজুড়ে বিস্তৃত।
১৯৬৩ সালে ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন মুসলিম শিক্ষার্থীর উদ্যোগে গড়ে ওঠে মুসলিম স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (এমএসএ)। সেই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামিক সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকা। ইসনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে মুসলিম স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (MSA), ইসলামিক মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (IMA), অ্যাসোসিয়েশন অব মুসলিম সোশ্যাল সায়েন্টিস্টস (AMSS) এবং অ্যাসোসিয়েশন অব মুসলিম সায়েন্টিস্টস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (AMSE)।

১৯৬৩ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে ইসনার কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ৬৩ বছরের ইতিহাসে এবার নিয়ে মাত্র দু’বার ডেট্রয়েটে এই সম্মেলন আয়োজিত হলো। এর আগে ২০১৪ সালে ডেট্রয়েটে ইসনার ৫১তম কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবারের সম্মেলন রাজনৈতিক দিক থেকেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রথমবারের মতো একজন মুসলিমের যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস সিনেটে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মিশিগানের সন্তান আব্দুল আল-সায়িদ সেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের একজন।
মিশিগানে বসবাসকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা প্রায় এক লাখ। তাঁদের প্রায় ৯০ শতাংশই মেট্রো ডেট্রয়েটের বিভিন্ন শহরে বসবাস করেন। তবে একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর তুলনায় বাংলাদেশি চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের ইসনা কনভেনশনে অংশগ্রহণ এখনও তুলনামূলকভাবে কম।




