২ জুলাই : পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশে প্রায় ১২৫ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক গুরুদ্বার ভেঙে ফেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ফারুকাবাদের ঐতিহাসিক শ্রী গুরু সিং সভা সাহিব গুরুদ্বারের একাংশ অবৈধভাবে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় সংখ্যালঘু শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, গত ২৪ জুন রাতে কোনও বৈধ অনুমতি বা ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) ছাড়াই গুরুদ্বারটির একাংশ ভেঙে ফেলা হয়। ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় শিখ সম্প্রদায়ের সদস্যরা রাস্তায় নামলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক এবং পরিকল্পিত ধ্বংস’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি পাকিস্তান সরকারকে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ধ্বংসপ্রাপ্ত অংশ দ্রুত পুনর্নির্মাণ এবং পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানায় নয়াদিল্লি।
তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, গত প্রায় ৮০ বছর ধরে গুরুদ্বারটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। ওই এলাকায় বহু পরিবার বসতি গড়েছে এবং অসংখ্য দোকানপাট তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, গুরুদ্বারটি পুনর্নির্মাণ করা হলে বহু মানুষ উচ্ছেদের মুখে পড়তে পারেন। ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনা সংরক্ষণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি এখন পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।



