মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ২০ সেপ্টেম্বর : বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ হিসেবে বাজারিছড়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হল কমিউনিটি কম্পোস্ট পিটের। গৃহস্থালি ও অন্যান্য জৈব বর্জ্যকে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় জৈব সারে রূপান্তরের লক্ষ্যে নির্মিত এই প্রকল্পের উদ্বোধনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়।
শনিবার বিকেল ৪টা নাগাদ জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগের আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি, আত্মসহায়ক দলের সদস্য, স্থানীয় বিদ্যালয়ের পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে ফিতা কেটে প্রকল্পটির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে কম্পোস্ট পিটের প্রয়োজনীয়তা, ব্যবহারবিধি, বর্জ্য পৃথকীকরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে উপস্থিতদের অবহিত করেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।
অনুষ্ঠানে শ্রীভূমি ডিভিশনের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার মনদ্বীপ কর, পাথারকান্দি সাব-ডিভিশনের এসডিও অজয় সেন, জেই ইজ্জাদুর রহমান, আসিম আহমদ, কঙ্কনজ্যোতি দাস ও আহাদ আহমেদ লস্করসহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা জানান, এলাকার বাড়িঘর থেকে উৎপন্ন জৈব বর্জ্য নির্দিষ্টভাবে কম্পোস্ট পিটে জমা করে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় তা জৈব সারে পরিণত করা হবে। উৎপাদিত সার কৃষিজমি ও বাগানে ব্যবহার করা সম্ভব। এর ফলে একদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে, অন্যদিকে রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে বাজারিছড়া জিপির সভানেত্রী ডলি নন্দী, লোয়াইরপোয়া জেলা পরিষদ সদস্য স্বপন দাস এবং লোয়াইরপোয়া মণ্ডল বিজেপির সভানেত্রী সম্পারানি চৌধুরীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। স্বপন দাস প্রকল্পটিকে সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, উৎপাদিত জৈব সার সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে মাটির গুণগত মান ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে তা সহায়ক হতে পারে। তিনি জানান, স্বচ্ছ ভারত মিশন (গ্রামীণ)-এর আওতায় প্রকল্পটি নির্মাণ করা হয়েছে। মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও বিশেষ কাজে ব্যস্ত থাকায় আসতে পারেননি।
সম্পারানি চৌধুরী প্রকল্পটির সঠিক ব্যবহার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, বর্জ্য পৃথকীকরণ ও নির্দিষ্ট স্থানে জৈব বর্জ্য ফেলার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।



