নেশামুক্ত যুবসমাজ গঠনের আহ্বান সোনাই কলেজে

Spread the news

আব্দুল হক, সোনাই।
বরাক তরঙ্গ, ২০ সেপ্টেম্বর : নেশামুক্ত সমাজ ও সুস্থ-সবল যুবসমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে সোনাই।মাধবচন্দ্র দাস কলেজ অডিটোরিয়ামে রবিবার অনুষ্ঠিত হলো ‘নেশামুক্ত ভারত—বিকশিত ভারত’ সচেতনতামূলক কর্মসূচি।মাই ভারত যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রক, ভারত সরকারের কাছাড় জেলা শাখার উদ্যোগে এবং মাধবচন্দ্র দাস কলেজের এনসিসি, এনএসএস ও আইকিউএসি’র সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক  তথা বিশিষ্ট সমাজকর্মী পরিমল চন্দ্র দাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাই ভারতের কাছাড় জেলার জেলা যুব আধিকারিক কিষাণ কিচি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কলেজের আইকিউএসি সমন্বয়ক অধ্যাপক আফসর হোসেন লস্কর, ড. আব্দুল বাছিত লস্কর, দর্শন বিভাগের অধ্যাপিকা তথা এনসিসি গার্লস ইউনিটের সিটিও অধ্যাপিকা মিনারা বেগম লস্কর, অধ্যাপিকা ড. হামিদা খাতুন, মাতৃভূমি এনজিও-র সভাপতি সিতাংশু দাস, প্রাক্তন ডিএসও বদর উদ্দিন মজুমদার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অধ্যাপিকা মিনারা বেগম লস্কর। তিনি নেশার কুপ্রভাব থেকে যুবসমাজকে দূরে রেখে শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধান অতিথি পরিমলচন্দ্র দাস তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি পরিবার, সমাজ ও জাতির ভবিষ্যৎ অনেকাংশেই নির্ভর করে তরুণ প্রজন্মের ওপর। নেশা শুধু একজন ব্যক্তির জীবনকেই ধ্বংস করে না, তার প্রভাব পরিবার ও সমাজের উপর পড়ে। তাই যুবসমাজকে নেশার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মানবিক সমাজ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে নেশাবিরোধী সচেতনতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিশেষ অতিথি কিষাণ কিচি তাঁর বক্তব্যে ‘নেশামুক্ত ভারত’ অভিযানের উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, নেশামুক্ত ভারত গড়ার আন্দোলন কেবল সরকারি কর্মসূচি নয়।এটি একটি সামাজিক দায়িত্ব। বিশেষ করে যুবসমাজকে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। নেশা থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহানুভূতিশীল মনোভাব নিয়ে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য অতিথিরাও নেশার ক্ষতিকর দিক, যুবসমাজের ওপর এর প্রভাব এবং নেশামুক্ত সমাজ গঠনে পরিবার, শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য রাখেন। বক্তারা নেশার বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, গান ও নেশাবিরোধী নাটক। নাটক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে নেশার কারণে ব্যক্তি ও পরিবারের জীবনে যে বিপর্যয় নেমে আসে, তা অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে নেশাবিরোধী স্লোগান লিখন কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়।

বিশেষ অতিথি কিষাণ কিচির নেতৃত্বে অনুষ্ঠানে নেশামুক্ত ভারতের শপথ বা প্লেজ পাঠ করা হয়। উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অতিথিরা নেশা থেকে নিজেদের দূরে রাখার পাশাপাশি সমাজকে নেশামুক্ত করার কাজে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা কয়েকজন ব্যক্তিকে সম্মাননাও প্রদান করা হয়। তাঁদের সামাজিক ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যুবসমাজকে অনুপ্রাণিত করার জন্য এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু ও প্রাণবন্তভাবে উপস্থাপনা করেন কলেজের অধ্যাপক তথা উপাধ্যক্ষ ও অনুষ্ঠানের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর ড. আব্দুল মতিন লস্কর। তাঁর সাবলীল সঞ্চালনায় পুরো অনুষ্ঠানটি সুসংগঠিতভাবে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানের শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ইয়াসমিন সুলতানা লস্কর।

সভাপতির বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। নেশার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় এবং যুবসমাজকে একটি সুস্থ, সুন্দর ও উন্নত ভারতের নির্মাণে এগিয়ে আসার আহ্বানের মধ্য দিয়ে এমসিডি কলেজের এমন সচেতনতামূলক কর্মসূচি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *