কৃষ্ণেন্দু পালকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের দাবি হাফিজ রশিদের

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১৬ আগস্ট : পাথারকান্দির বিধায়ক তথা মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক, সাম্প্রদায়িক ও অসাংবিধানিক মন্তব্যের অভিযোগ তুলে এফআইআর দায়েরের দাবি জানালেন আইনজীবী ও সচেতন নাগরিক হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরী। এ বিষয়ে তিনি অসমের পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিপি)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করে নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ১৫ আগস্ট করিমগঞ্জে সংবাদমাধ্যমের সামনে বিকাশ ধর হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল ছাগলমোয়া এলাকার বাসিন্দাদের ‘বাংলাদেশি’ বলে অভিহিত করেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন। অভিযোগকারীর দাবি, ব্যক্তিগত জমি সংক্রান্ত বিরোধ থেকে উদ্ভূত একটি হত্যাকাণ্ডকে মন্ত্রীর বক্তব্যের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক রং দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।

হাফিজ রশিদ আহমদ চৌধুরীর বক্তব্য, কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে নির্ধারণ করা যায় না। যথাযথ নথিপত্র ও আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা আদালতই নাগরিকত্বের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাঁর অভিযোগ, মন্ত্রীর বক্তব্যের পর সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এমনকি অনেকে মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তেও ভয় পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১৯২, ১৯৬, ১৯৭, ২৯৯, ৩০২ ও ৩৫৩ ধারায় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি মন্ত্রী পদমর্যাদার কোনও প্রভাব বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে।

এদিকে, কৃষ্ণেন্দু পালকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের দাবিও জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই অসমের রাজ্যপালের কাছে এ বিষয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারী। অন্যদিকে, বিকাশ ধর হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে নিরীহ মানুষের বাড়িঘর বা দোকানে হামলা, ভাঙচুর কিংবা অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা রুখতে প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিকাশ ধরের মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে হত্যাকাণ্ডের তদন্তের সঙ্গে কোনও নির্দোষ ব্যক্তি বা সম্প্রদায়কে জড়িয়ে আতঙ্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি করা উচিত নয়। আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে আইনের শাসনের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রশাসনের কাছে করিমগঞ্জ জেলার প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ছাগলমোয়াসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে প্রয়াত বিকাশ ধরের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাঁর বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *