টিলা কেটে মাটি বিক্রি! বাড়ির অংশ ধসে ক্ষতিগ্রস্ত, রাজনগরে বিপাকে চার পরিবার

Spread the news

রাজীব মজুমদার, ধলাই।
বরাক তরঙ্গ, ৯ জুলাই :
ধলাই সমজেলার রাজনগর-খুলিছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের রাজনগর এলাকায় টানা বর্ষণের জেরে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চারটি দরিদ্র পরিবার। ইতিমধ্যেই একটি বসতবাড়ির বড় অংশ ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি আরও তিনটি বাড়িতে বড় বড় ফাটল দেখা দেওয়ায় সেগুলিও যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিরাপত্তার স্বার্থে অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে প্রতিবেশীদের আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন রেহিম উদ্দিন লস্কর, কমরুল ইসলাম, শরিফা বেগম ও ছইফ উদ্দিন। তাঁদের অভিযোগ, গত শুকনো মরশুমে বসতবাড়ির সংলগ্ন টিলা থেকে প্রায় ২০ ফুট গভীর করে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা হয়। সে সময় তাঁরা এবং গ্রামের প্রবীণরা গভীর খননের বিরোধিতা করে সম্ভাব্য ভূমিধসের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই মাটি কাটার কাজ চলতে থাকে বলে অভিযোগ।

পরিবারগুলির দাবি, টানা বর্ষণের ফলে সেই আশঙ্কাই বাস্তবে পরিণত হয়েছে। টিলার বড় অংশ গাছপালাসহ ধসে পড়েছে। একটি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বাকি তিনটি বাড়িতেও ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে যে কোনো সময় আরও বড় ধরনের ভূমিধসের আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বাড়ি ধসে যাওয়ার আশঙ্কায় দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপে ছিলেন পরিবারের এক প্রবীণ সদস্য। গত মঙ্গলবার তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তবে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে ভূমিধসের ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা প্রশাসনিক বা চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের উদ্বেগ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটিয়েছিল।
জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির অধিকাংশই প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় নির্মিত বাড়িতে বসবাস করতেন। সেই বাড়িগুলিও এখন ভূমিধসের মুখে পড়ায় মাথা গোঁজার একমাত্র আশ্রয় হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটছে তাঁদের।

এদিকে, এলাকাবাসীর দাবি, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত ভূতাত্ত্বিক ও কারিগরি সমীক্ষা করা হোক। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির নিরাপদ পুনর্বাসন, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।
বর্ষা অব্যাহত থাকায় এলাকায় আরও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সম্ভাব্য প্রাণহানি এড়াতে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবিও ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *