৮ আগস্ট : বাবার মৃত্যুর পর ইরানের (Iran) সর্বময় ক্ষমতার আসনে বসার পর থেকেই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব। মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ হানায় বাবা তথা তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেন মোজতবা খামেনেই (Mojtaba Khamenei)। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর স্বাস্থ্য ও বর্তমান অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। এবার খামেনেইয়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি তুলল ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যম। তাদের দাবি, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা এবং তাঁর অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক।
ইজরায়েলের (Israel) প্রধান গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে মোজতবা খামেনেইয়ের শারীরিক পরিস্থিতি “অত্যন্ত সংকটজনক”। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন হামলায় সর্বোচ্চ নেতার কম্পাউন্ড গুঁড়িয়ে যাওয়ার পর থেকেই নাকি মন্ত্রিপরিষদের কোনো সদস্যের সঙ্গেই মোজতবা খামেনেইয়ের সরাসরি কোনো বৈঠক হয়নি। এমনকি ইরানের শাসক মহলের অন্দরেও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে যে, তাঁর অবস্থা যেকোনো মুহূর্তে মৃত্যুর দিকে মোড় নিতে পারে। পেজেশকিয়ান প্রশাসনের এক ঘনিষ্ঠ সূত্রকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ যে যেকোনো সময় মৃত্যুর খবর পেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখনও পর্যন্ত একবারের জন্যও জনসমক্ষে আসেননি মোজতবা খামেনেই। কোনো ভাষণও দেননি। শুধুমাত্র সরকারি গণমাধ্যমের মাধ্যমেই তাঁর নামে কিছু লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে, যা তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে সন্দেহকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর আগে খামেনেইয়ের আহত হওয়ার খবর ইরান অস্বীকার করলেও, সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান নিজে স্বীকার করেছেন যে বর্তমান পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে খামেনেইয়ের উপস্থিতিকে সরকারের শক্তির বড় উৎস হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দাবি করেছেন, নেতার সঙ্গে তাঁর ইতিবাচক ও যুক্তিসম্মত আলোচনা হয়েছে।
আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই মোজতবা খামেনেইয়ের এই দীর্ঘ জনসমক্ষে না আসা এবং কেবল লিখিত বার্তার ওপর নির্ভরতা বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। পাশ্চাত্য ও বিরোধী গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মতে, ফেব্রুয়ারির ওই ভয়াবহ হামলায় মারাত্মক জখম হয়েছিলেন তিনি। এখন দেখার বিষয়, তেহরান প্রশাসন এই চাঞ্চল্যকর দাবির জবাবে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেয় কি না।



