বরাক তরঙ্গ, ৯ অক্টোবর : ‘শেয়ারিং ইজ কেয়ারিং’—ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই রয়েছে যত্ন ও ভালোবাসার প্রকাশ। শিশুদের মধ্যে সহমর্মিতা, পরোপকার ও সেবার মনোভাব গড়ে তোলার লক্ষ্যে হাইলাকান্দির ইউরোকিডস সরস্বতী বিদ্যা নিকেতন সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের উদ্যোগে দান উৎসব পালন করা হয়। এই উপলক্ষে শুক্রবার স্কুলের খুদে পড়ুয়ারা বনবাসী কল্যাণ আশ্রমের ছাত্রীনিবাসে গিয়ে বিভিন্ন স্কুলে অধ্যয়নরত ছাত্রীদের হাতে বই, খাতা, কলম, পেনসিল, চকলেট সহ নানা সামগ্রী তুলে দেয়।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের শেখানো হচ্ছে যে দানের মহত্ত্ব সামগ্রীর মূল্য বা অর্থের পরিমাণে নয়, বরং মানুষের হৃদয়ের উদারতায় নিহিত। পড়ুয়াদের অভিভাবকেরাও এই কর্মসূচিতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। তাঁরা সন্তানদের দানকর্মে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন সামগ্রী কিনে দেন। শিশুরা সেগুলি স্কুলে জমা করে এবং পরে বিভিন্ন স্থানে বিতরণ করা হয়।
শুক্রবার বনবাসী কল্যাণ আশ্রমের প্রাঙ্গণে পৌঁছালে খুদে পড়ুয়াদের স্বাগত জানান কল্যাণ পরিচালন সমিতির সভাপতি সুব্রত শর্মা মজুমদার সহ অন্যান্যরা।

স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুরা শুধু পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে নয়, জীবনের ছোট ছোট অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েও সহমর্মিতা, কৃতজ্ঞতা ও মানবিকতার শিক্ষা লাভ করে। সেই শিক্ষাকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার সুযোগ করে দিতেই প্রতি বছর দান উৎসবের আয়োজন করা হয়। ইউরোকিডস হাইলাকান্দির নার্সারি থেকে ইউরো সিনিয়র শ্রেণির পড়ুয়ারা নিজেদের জমানো সামান্য সঞ্চয়ের একটি অংশ অন্যের কল্যাণে উৎসর্গ করে। এর মাধ্যমে তাদের মধ্যে অপরের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা গড়ে ওঠে।
এ বছরের দান উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিশুদের নিজেদের হাতে তৈরি ধন্যবাদ জ্ঞাপক কার্ড। ছোট্ট হাতে তৈরি এই কার্ডগুলি হাইলাকান্দির ট্রাফিক পুলিশকর্মী, হাইলাকান্দি পুরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং বনবাসী কল্যাণ আশ্রমের ছাত্রীদের হাতে তুলে দেয় তারা। সমাজের বিভিন্ন স্তরে মানুষের অবদানকে সম্মান জানানো এবং তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এই উদ্যোগ শিশুদের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলার পাশাপাশি এক সুন্দর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

ছোটবেলা থেকেই পড়ুয়াদের মধ্যে সেবার মনোভাব, সহমর্মিতা ও পরোপকারের শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছে। খুদে পড়ুয়াদের এই দান উৎসবের মধ্য দিয়ে আরও একবার উঠে এসেছে মানবিকতার এক সহজ অথচ গভীর বার্তা—অন্যের মুখে হাসি ফোটাতে বড় কিছু নয়, প্রয়োজন শুধু একটি উদার হৃদয় ও আন্তরিক প্রয়াস।



