ই-কেওয়াইসি ও ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেটে জোর, লাতু-সজপুরে গ্রামসভায়

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১৮ জুলাই :
গ্রামের উন্নয়নকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনমুখী করে তুলতে এবং ‘বিকশিত ভারত গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও জীবিকা নিশ্চয়তা মিশন (ভিবি-জি রাম-জি)’-এর অধীনে আগামী অর্থবছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে শনিবার লাতু-সজপুর গাঁও পঞ্চায়েত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো এক তাৎপর্যপূর্ণ গাঁও সভা। সকাল ১১টায় শুরু হওয়া এই সভায় বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসী, জনপ্রতিনিধি ও পঞ্চায়েত কর্মীরা অংশ নিয়ে এলাকার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রূপরেখা নির্ধারণে সক্রিয় মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেন। সভায় স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়—উন্নয়নের প্রতিটি পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা।

সভায় আগামী অর্থবছরের জন্য গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সরকারি পরিষেবাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, গ্রামবাসীর বাস্তব চাহিদাকে সামনে রেখেই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে, যাতে সরকারি প্রকল্পের সুফল প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে যায়।

গ্রামসভায় জব কার্ডধারীদের ই-কেওয়াইসি (e-KYC) সম্পন্ন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। জিআরএস মহন্ত চক্রবর্তী জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন না করলে ভবিষ্যতে ভিবি-জি রাম-জি-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণে জটিলতা দেখা দিতে পারে। একইসঙ্গে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের উপভোক্তাদের দ্রুত ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। সময়মতো লাইফ সার্টিফিকেট জমা না দিলে ভাতা প্রাপ্তি ব্যাহত হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়।

গ্রাম পঞ্চায়েত সভানেত্রী স্নিগ্ধা দাস তাঁর বক্তব্যে বলেন, “গ্রামসভা কেবল একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক নয়, এটি গ্রামবাসীর মতামত, সমস্যা ও উন্নয়নের ভাবনা তুলে ধরার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক মঞ্চ। উন্নয়নের প্রকৃত ভিত্তি গড়ে ওঠে মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই।”

তিনি আরও বলেন, সরকারের প্রতিটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত উপভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়াই পঞ্চায়েতের মূল লক্ষ্য। সকল জব কার্ডধারীকে দ্রুত ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করা এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের উপভোক্তাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট জমা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

‘বিকশিত ভারত গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও জীবিকা নিশ্চয়তা মিশন’-এর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সভানেত্রী বলেন, আত্মনির্ভর, উন্নত ও সমৃদ্ধ গ্রাম গড়ে তোলাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে উন্নত ভারতের যে স্বপ্ন বাস্তবায়নের কাজ চলছে, তার অন্যতম ভিত্তি হলো উন্নত গ্রাম। তাই জনগণের মতামত ও বাস্তব চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়েই ভবিষ্যতের প্রতিটি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন জিপি উপ-সভানেত্রী রুকসানা বেগম, ওয়ার্ড সদস্য মলয় দাস, ইন্দ্রজিৎ দাস, জামাল আহমেদ, ওয়ার্ড সদস্যা রুনু বেগম ও রুফসানা বেগম, আঞ্চলিক পঞ্চায়েত সদস্যার প্রতিনিধি তাজুল ইসলাম চৌধুরী, জিআরএস মহন্ত চক্রবর্তী, জিপিসি শ্যামকুমার সিং, ট্যাক্স কালেক্টর মিতালি কর, সইনুল হক, বিশ্বজিৎ রায় অষ্টপতি, সামসুল ইসলাম, মাহবুব চৌধুরী-সহ পঞ্চায়েত এলাকার বহু গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গ্রামবাসী।

সভা শেষে গ্রামবাসীরা আশা প্রকাশ করেন, গৃহীত সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়িত হলে লাতু-সজপুর গাঁও পঞ্চায়েত উন্নয়নের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং সরকারি প্রকল্পের সুফল আরও দ্রুত সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *