বরাক তরঙ্গ, ২২ এপ্রিল : উত্তর-পূর্ব ভারতের বিশিষ্ট সাংবাদিক, সম্পাদক ও সাহিত্যিক সুকুমার বাগচী মঙ্গলবার রাত ১১টায় মুম্বাইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তিনি মুম্বাইয়ে তাঁর জ্যেষ্ঠ কন্যার সঙ্গে বসবাস করছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন।
সুকুমার বাগচী কর্মজীবন শুরু করেন বিজ্ঞাপন জগতে কবিতার মাধ্যমে এবং পরে স্টেট ব্যাঙ্কে কর্মরত ছিলেন। একইসঙ্গে তিনি শিক্ষকতাও করেন। ১৯৮০-এর দশকে শিলংয়ে কর্মরত থাকাকালীন তিনি শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং কারাবাসও ভোগ করেন।
কারামুক্তির পর তিনি সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। প্রথমে সংবাদ সংস্থা ইউএনআই-এর হয়ে পার্টটাইম প্রতিবেদক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ১৯৮৩ সালে গুয়াহাটি থেকে ইংরেজি দৈনিক দ্য সেন্টিনেল প্রকাশের মাধ্যমে তিনি পূর্ণকালীন সাংবাদিকতায় প্রবেশ করেন। দীর্ঘদিন তিনি উত্তর-পূর্বের বিশেষ সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালে তিনি সেন্টিনেল গ্রুপের বাংলা দৈনিক সময় প্রবাহ-এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং প্রায় ১৩ বছর পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। তাঁর সম্পাদনায় একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। ২০০৯ সালে তিনি শিলং টাইমস গ্রুপের বাংলা দৈনিক সংবাদ লহরী-র প্রধান সম্পাদক হন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সুকুমার বাগচী সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতেও সমানভাবে সক্রিয় ছিলেন। তিনি বাংলা ভাষার বানান ও উচ্চারণ সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর লেখা দুটি বই বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। শেষ গ্রন্থ “বাংলা বানান ও উচ্চারণ” প্রকাশ করে বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন।
তিনি ছিলেন কবি, গদ্য লেখক ও মঞ্চ অভিনেতা। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলির মধ্যে রয়েছে ‘সারেন্ডার’, ‘ইভনিং ডায়েরি’, ‘বার্থডে এভরি ডে’, ‘ডিস্ট্যান্ট জার্নি’ এবং ‘দিস আলোমেলো’। ২০২৫ সালে তাঁকে নিয়ে ছোট পত্রিকা মজলিশ সংবাদ একটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে। তিনি অসম সরকারের সাহিত্য পেনশনও পেয়েছিলেন।
সম্পাদনা জীবনে তাঁর স্পষ্টভাষিতা ও বিশ্লেষণধর্মী লেখার জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন। প্রতি বছর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনে ছন্দোবদ্ধ কবিতা সহ সম্পাদকীয় লেখা তাঁর বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল।
তাঁর মৃত্যুতে সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এক্সেপশনাল গ্রুপ, রামনাথ ভট্টাচার্য ফাউন্ডেশন (মুম্বাই), একা এবং বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের কেন্দ্রীয় সমিতির সভাপতি সতু রায় ও সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ চন্দ্র দত্তসহ বিভিন্ন সংগঠন শোক প্রকাশ করেছে।



