মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২৯ অক্টোবর : স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি সেকেন্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো রোগের লক্ষণ শনাক্ত করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে প্রাণ বাঁচানোর পাশাপাশি স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতার ঝুঁকিও অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তাই স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোনও রকম বিলম্ব না করে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা গ্রহণের আহ্বান জানালেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ এনকে ভট্টাচার্য। ২৯ অক্টোবর বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যে স্ট্রোক সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
ডাঃ ভট্টাচার্য জানান, স্ট্রোক কোনও নির্দিষ্ট বয়সের রোগ নয়। যে কোনও বয়সের মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী কোনও রক্তনালি বন্ধ হয়ে গেলে অথবা রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হলে স্ট্রোক হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে এর পরিণতি স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতা থেকে শুরু করে প্রাণহানি পর্যন্ত হতে পারে। তাই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরি।
স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ সহজে চেনার জন্য তিনি B.E.F.A.S.T. পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেন। এই পদ্ধতিতে হঠাৎ শরীরের ভারসাম্য হারানো (Balance), দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা (Eyes), মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া (Face), হাত দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া (Arms), কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা স্পষ্টভাবে কথা বলতে না পারা (Speech) এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা (Time)—এই বিষয়গুলির প্রতি নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

চিকিৎসকের পরামর্শ, কারও মধ্যে স্ট্রোকের একটি লক্ষণও দেখা দিলে অপেক্ষা করা উচিত নয়। অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার সাহায্য নিতে হবে। পাশাপাশি, কখন প্রথম লক্ষণ দেখা দিয়েছিল, সেই সময়টি মনে রাখা বা লিখে রাখা প্রয়োজন।
চিকিৎসাকর্মীদের পরামর্শ ছাড়া রোগীকে কোনও খাবার, পানীয় কিংবা ওষুধ দেওয়া উচিত নয়। নিজে গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পরিবর্তে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার সহায়তা নেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
স্ট্রোক প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ডাঃ ভট্টাচার্য বলেন, নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণে রাখা, ডায়াবেটিস এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য বর্জন, নিয়মিত শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং খাবারে লবণের পরিমাণ কমানো অত্যন্ত জরুরি। হৃদ্যন্ত্রের অনিয়মিত স্পন্দন বা অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়াও প্রয়োজন।

তিনি আরও জানান, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, ধূমপান এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক—উভয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই হৃদ্যন্ত্রের পাশাপাশি মস্তিষ্কের সুস্থতা রক্ষায়ও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
বিশ্ব স্ট্রোক দিবসে ডাঃ এনকে ভট্টাচার্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান, নিজেরা সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যেও স্ট্রোক সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে। তাঁর মতে, স্ট্রোকের লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করা এবং বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই একটি জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।



