মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ২৪ এপ্রিল : নতুন শিক্ষাবর্ষের দিনগুলোকে আনন্দময় ও উৎসাহব্যঞ্জক করে তুলতে বৈঠাখাল এমই স্কুলে আয়োজন করা হলো বিনামূল্যে নতুন পাঠ্যবই ও স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণ কর্মসূচি। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের সূচনালগ্নে অসম সরকারের রাজ্য শিক্ষা দফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার পাথারকান্দি ব্লক প্রাথমিক শিক্ষা খণ্ডের অধীন বৈঠাখাল এমই স্কুলে এই বিশেষ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই ও ইউনিফর্ম তুলে দেওয়ার এই উদ্যোগে স্কুল প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নতুন বইয়ের গন্ধ আর নতুন পোশাক পাওয়ার আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা।এদিন সকাল প্রায় এগারোটায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অপূর্ব দে, স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি মোহিত লাল বৈদ্যকে সঙ্গে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই ও নতুন স্কুল ইউনিফর্ম তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্কুল পরিচালন সমিতির উপ-সভানেত্রী প্রতিমা তেলেঙ্গা, সহকারী শিক্ষিকা বেলারানি নাথ, শিক্ষক বিনয় দাস, আবু সুফিয়ান, অঞ্জিতা সিংহ, কল্যাণী সিংহসহ বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকবৃন্দ।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধান শিক্ষক অপূর্ব দে বলেন, নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই ও ইউনিফর্ম তুলে দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো তাদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ আরও বৃদ্ধি করা। তিনি ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির প্রতিটি শিক্ষার্থীকে কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিয়মিত পঠন-পাঠনে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “নতুন বই ও নতুন পোশাক শিক্ষার্থীদের মনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। এই উৎসাহকে কাজে লাগিয়ে তোমাদের ভবিষ্যৎ গড়তে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই যেন কোনও শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে প্রতিটি শিক্ষক-শিক্ষিকাকে বিশেষভাবে নজর রাখতে হবে। পাশাপাশি নবাগত ছাত্রছাত্রীদের বরণ এবং গত বছরের অষ্টম শ্রেণির বিদায়ী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা জানাতে আগামী কিছু দিনের মধ্যেই বিদ্যালয়ে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে বলে জানান।শুধু নিয়মিত পাঠদান নয়, শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমেও গুরুত্ব দিচ্ছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে ছাত্রীদের সৃজনশীল বিকাশের লক্ষ্যে প্রতি শনিবার নৃত্য অনুশীলনের ব্যবস্থা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রয়াসে পাথারকান্দির বিশিষ্ট সমাজসেবক পান্না গোপ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান প্রধান শিক্ষক।বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগকে অভিভাবক মহল ও স্থানীয় বাসিন্দারা অত্যন্ত প্রশংসার সঙ্গে গ্রহণ করেছেন। তাঁদের মতে, নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই এমন ইতিবাচক পরিবেশ শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের প্রতি আকর্ষণ বাড়াবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



