শিলচরে এআইএমএসএসের তৃতীয় কাছাড় জেলা সম্মেলন, কমিটি পুনর্গঠন
বরাক তরঙ্গ, ৭ সেপ্টেম্বর: শিলচরের গান্ধী ভবনে অনুষ্ঠিত হলো অল ইন্ডিয়া মহিলা সাংস্কৃতিক সংগঠন (এআইএমএসএস)-এর তৃতীয় কাছাড় জেলা সম্মেলন। সম্মেলন উপলক্ষে নারীদের বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে একটি সুসজ্জিত মিছিল বের হয়। গান্ধী ভবন থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি সেন্ট্রাল রোড, প্রেমতলা ও শিলংপট্টি হয়ে পুনরায় গান্ধী ভবনে এসে শেষ হয়।
মিছিল শেষে গান্ধী ভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় প্রকাশ্য সমাবেশ। এআইএমএসএস-এর প্রাক্তন নেত্রী রেখা ভট্টাচার্যের পরিচালনায় সমাবেশে সম্মেলনের উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন সংগঠনের কাছাড় জেলা সম্পাদক দুলালী গাঙ্গুলি। আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখিকা ও সমাজকর্মী স্বপ্না ভট্টাচার্য।
সম্মেলনের মুখ্য বক্তা ছিলেন সংগঠনের রাজ্য সভানেত্রী ডাঃ চিত্রলেখা দাস। বক্তব্যে ডাঃ দাস নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা বৃদ্ধির জন্য দেশের বর্তমান আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি এবং মূল্যবোধের অবক্ষয়কে দায়ী করেন। তাঁর অভিযোগ, পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে সরকার ছাত্র-যুব সমাজের নৈতিক মেরুদণ্ড দুর্বল করার উদ্দেশ্যে মদ, মাদক ও অশ্লীলতার প্রসার ঘটাচ্ছে। এর ফলেই নারীর বিরুদ্ধে অপরাধ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে তিনি দাবি করেন। উন্নত নীতি, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে এআইএমএসএসকে একটি শক্তিশালী মহিলা সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

স্বপ্না ভট্টাচার্য নারী সমাজের উপর নেমে আসা বিভিন্ন আক্রমণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সমাবেশে নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও গণধর্ষণ প্রতিরোধ, মদ ও মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি অশ্লীলতার প্রসার বন্ধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং শিলচর মেডিক্যাল কলেজের স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতির দাবিতে একাধিক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
এরপর শুরু হয় সম্মেলনের প্রতিনিধি সভা। সভার শুরুতে সংগঠনের কাছাড় জেলা সম্পাদক দুলালী গাঙ্গুলও সম্পাদকীয় প্রতিবেদন পাঠ করেন। প্রতিবেদনের উপর উপস্থিত প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রতিনিধি সভায় বক্তব্য রাখেন এসইউসিআই (কমিউনিস্ট)-এর কাছাড় জেলা সম্পাদক ভবতোষ চক্রবর্তী। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের ধনিক শ্রেণির শাসন ও শোষণের ফলে সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। তাঁর দাবি, জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পরিবর্তে ভোটের স্বার্থে সামান্য অনুদান দিয়ে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি শোষণ করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের মহিলারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ভবতোষ চক্রবর্তী বলেন, মার্ক্সবাদী চিন্তাবিদ শিবদাস ঘোষ ভারতীয় সমাজে মহিলাদের অর্থনৈতিক শোষণের পাশাপাশি পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক ব্যবস্থার শিকার হওয়ার বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নারীদের শোষণমুক্তির জন্য পুঁজিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং সমাজতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে মহিলাদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন। শিবদাস ঘোষের শিক্ষাকে পাথেয় করে শক্তিশালী মহিলা আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে এআইএমএসএস-এর ২১ সদস্যের কাছাড় জেলা কমিটি গঠনের প্রস্তাব পেশ করা হয়। উপস্থিত প্রতিনিধিরা সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবটি অনুমোদন করেন। নবগঠিত কমিটির সভাপতি হিসেবে দুলালী গাঙ্গুলি এবং সম্পাদক হিসেবে সম্পা দে মনোনীত হন।
নবগঠিত জেলা কমিটির পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী নারী আন্দোলন গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।


