বরাক তরঙ্গ, ১৮ আগস্ট : কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের ইকো-সেনসিটিভ জোন (ESZ) সংকোচনের প্রস্তাবকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। মঙ্গলবার কেবিনেট বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে জানান, কাজিরাঙা সংরক্ষণের দায়িত্ব শুধু সামাজিক মাধ্যমের প্রচারে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। তাঁর বক্তব্য, “জনগণকেই কাজিরাঙা রক্ষা করতে হবে, ফেসবুক-টুইটার কাজিরাঙাকে রক্ষা করতে পারবে না।”
বর্তমানে কাজিরাঙার ESZ-এর পরিসর কমিয়ে স্থানভেদে ১ থেকে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য সরকার। এতদিন ডিফল্ট হিসেবে ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত ESZ-এর বিধান ছিল। এই প্রস্তাব ঘিরে পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় উন্নয়নের মধ্যে বিতর্ক তীব্র হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রিল বা ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে কাজিরাঙা সংরক্ষণ সম্ভব নয়। ESZ নিয়ে প্রতিবাদকারীদের একাংশকে নিশানা করে তিনি কংগ্রেসকেও আক্রমণ করেন এবং অতীতে কাজিরাঙায় গণ্ডার হত্যার ঘটনা নিয়ে বিরোধীদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
হোটেল থাকতে পারে, খনন নয় ESZ-এর মধ্যে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইকো-সেনসিটিভ জোনের মধ্যে পাঁচতারা হোটেল থাকতে পারে, কিন্তু খনন কার্য চালানো যাবে না। বর্তমান বিতর্কের সঙ্গে কোনও নির্দিষ্ট হোটেলের সম্পর্ক নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন৷ হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বক্তব্য, কাজিরাঙার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মেনেই রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। তাঁর দাবি, ESZ নিয়ে বিতর্ককে কোনও নির্দিষ্ট হোটেলের সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক নয়। রাজ্য সরকারের যুক্তি, অতিরিক্ত বিস্তৃত ESZ-এর কারণে স্থানীয় পরিকাঠামো ও উন্নয়নমূলক কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
অন্যদিকে, পরিবেশকর্মীদের একাংশের আশঙ্কা, সুরক্ষা বেষ্টনী সংকুচিত হলে কাজিরাঙার বন্যপ্রাণী ও পরিবেশের ওপর চাপ বাড়তে পারে।
এদিকে, মঙ্গলবার কাজিরাঙায় ESZ সংকোচনের দাবির সমর্থনে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ প্রতিবাদে সামিল হন। ফলে কেবিনেটের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের পাশাপাশি কাজিরাঙার ESZ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যও সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে।


