বিহু শিল্পীদের অসম্মান নিন্দনীয়, সিএম ভিজিল্যান্স সেলের তদন্তের দাবি বিডিএফের

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২৬ অক্টোবর : শ্রীভূমি জেলার বদরপুরে হিন্দুস্থান ক্লাবের প্রতিমা বিসর্জনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিহু শিল্পীদের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের কঠোর শাস্তি এবং প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রীর ভিজিল্যান্স সেল অথবা ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছে বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (বিডিএফ)। এক প্রেস বিবৃতিতে বিডিএফের মুখ্য আহ্বায়ক প্রদীপ দত্তরায় বলেন, বরাকের মানুষ বরাবরই অন্য ভাষা ও সংস্কৃতিকে সম্মান জানিয়ে এসেছেন। বিহু গান ও নৃত্য এই অঞ্চলে অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানেও স্থানীয়রা বিহু নৃত্য উপভোগ করেন। কোনও সাংস্কৃতিক দল বা শিল্পীকে অসম্মান করা বরাকের সংস্কৃতি নয়। ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে কাউকে হেনস্থা করার কোনও নজির এই উপত্যকার ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রদীপ দত্তরায়ের মতে, এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা জরুরি। তাঁর বক্তব্য, কয়েকজন দুষ্কৃতী মদ্যপ অবস্থায় এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধরে নিলেও, প্রথমে ১৩ জন গ্রেফতার হওয়ার পর অভিযুক্তরা এত দ্রুত জামিন পেলেন কীভাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

তিনি আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরও এই ঘটনাকে ঘিরে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করায় প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, বিডিএফের মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জয়দীপ ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে অসমিয়া বনাম বাংলাদেশি সংঘাতের রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর মতে, এ ধরনের প্রচেষ্টা অনর্থক বিতর্ক সৃষ্টি করার পাশাপাশি বরাকের সমগ্র জনগোষ্ঠীকে অসম্মান করার শামিল। এ বিষয়ে সরকারি হস্তক্ষেপেরও দাবি জানান তিনি।

জয়দীপ ভট্টাচার্যের দাবি, প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রীর ভিজিল্যান্স সেল অথবা ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করতে হবে। প্রকৃত দোষীদের পাশাপাশি কেউ যদি ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করে থাকেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দায়িত্ব জেলা প্রশাসনের বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জয়দীপ ভট্টাচার্য বলেন, বরাকের মানুষ বিভেদ ও বিভাজনের পরিবর্তে পারস্পরিক সম্মান, সম্প্রীতি এবং সৌহার্দ্যে বিশ্বাসী। নিজেদের ন্যায্য অধিকারের উপর আঘাত এলে তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করেন। তাই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র বরাকের মানুষের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা কোনওভাবেই কাম্য নয়।
ঘটনার তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বরাক উপত্যকায় সরকার বা কোনও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মৌখিক কিংবা লিখিত বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্তদের দীর্ঘদিন জেল হেফাজতে থাকার একাধিক উদাহরণ রয়েছে। সেখানে শারীরিক আক্রমণ ও প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগে অভিযুক্তদের দ্রুত জামিন পাওয়ার বিষয়টি জনমনে সন্দেহ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *